
শেষ আপডেট: 8 August 2022 03:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: শরীরের তুলনায় কয়েক গুণ বড় মাথা (Brain) নিয়ে জন্মেছিল শিশুটি (Child)। পোশাকি ভাষায় যে রোগের নাম 'হাইড্রোসেফালাস' (Hydrocephalus)। সন্তান আর পাঁচটা বাচ্চার মতো নয় দেখেই সদ্যোজাতকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল (Left) মা। আসেনি বাবা বা বাড়ির কেউই। তারপর থেকে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে হাসপাতালেই (Hospital) পড়ে রয়েছে শিশুটি।
মর্মান্তিক ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore) জেলার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শালবনীর ভীমপুরের বাসিন্দা শিবাণী মাণ্ডি গত ১০ জানুযারি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু 'অন্যরকম' সন্তান প্রসব করেছেন দেখে দু'দিন পরেই পালিয়ে যান তিনি। হাসপাতালের তরফে ফোন করা হয় শিশুটির বাড়িতে। কিন্তু কেউ ফোন তোলেনি।
শেষমেষ আশা কর্মীদের দিয়ে শিশুটির বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। স্তন্যপান করানোর জন্য শিবাণী মাণ্ডিকে হাসপাতালে আসতে বলা হয়। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ হয়নি। শিশুটিকে নিতে আসেনি কেউই। নিরুপায় হয়ে কোতোয়ালি থানায় খবর দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে পুলিশের শমন পেয়ে হাসপাতালে এসে হাজির হয় শিশুর বাবা বিমল মাণ্ডি।
কিন্তু হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলার মতো আর্থিক আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান বিমলবাবু। ছেলেকে হাসপাতালেই ফেলে রেখে যান তিনিও।
হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত শিশুদের মস্তিষ্কের আকার অন্ধ শিশুদের তুলনায় বড় হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান চিকিৎসক তারাপদ ঘোষ। এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের মস্তিষ্কে ক্রমশ জল জমতে থাকে, যার ফলে বাড়তে থাকে মাথার আকার। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথায় জমা জল পেটের মধ্যে পাঠিয়ে দিতে হয়, তবেই সুস্থ থাকে শিশুরা।
কিন্তু এক্ষেত্রে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করার মতো পরিকাঠামো নেই বলে জানিয়েছেন তারাপদবাবু। এদিকে যত দিন যাচ্ছে, মস্তিষ্কের আকার ক্রমেই বাড়ছে শিশুটির। কলকাতায় নিয়ে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে রাজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাড়ির লোক রাজি না হওয়ায় এখনও তা করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে সুপার ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, শিশু সুরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাচ্চাটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে এই ধরনের অস্ত্রোপচারের পর পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামাপদ পত্র জানিয়েছেন, এই অবস্থায় কোনও সংস্থা কিংবা ব্যক্তি যদি বাচ্চাটির দেখভাল করার দায়িত্ব নেন, তাহলে শিশুটি একটি নতুন জীবন পেতে পারে।
ক্যানিংয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণ প্রতিবেশীর, পুলিশকে জানালেই খুন করার হুমকি অভিযুক্তের