দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৮ দিন ধরে অনশন করেছেন তাঁরা। আপাতত আন্দোলনের পথ থেকে সরলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। জানালেন, গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে আপাতত খুশি তাঁরা।
পার্শ্বশিক্ষকরা বারবার অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কথা শুনতেই চায়নি শিক্ষা দফতর। শেষমেশ গতকাল, বুধবার দুপুরে সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অনশনকারী পার্শ্বশিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেশ খানিকক্ষণ সময় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন অনশনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধিদল। বৈঠকের পরে খবর আসে, আপাতত খুশি হয়েছেন শিক্ষকেরা। তবে অনশন তুলবেন কিনা, তা তখনই জানাতে রাজি হননি তাঁরা। পরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জানান, আপাতত উঠছে অনশন।
তবে তাঁদের দাবি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে রাজ্য সরকারকে তিন মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন অনশনকারীরা। আজকের পর তাঁরা যে যার বাড়ি ফিরে যাবেন, যোগ দেবেন কাজে। তিন মাসের মধ্যে দাবিপূরণ না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পার্শ্বশিক্ষক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ বলেন, ”আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করিনি। স্থগিত রাখলাম। শিক্ষামন্ত্রী কথা দিয়েছেন যে উনি আমাদের দাবিগুলো ভেবে দেখবেন। উনি নিজের কথা না রাখলে ফের আমরা নামব।” আজ বিকেলে ফলের রস খেয়ে অনশন প্রত্যাহারের পর অনশনস্থলেই আন্দোলনকারীদের মাংস-ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করেন তাঁরা।
গতকাল বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, "একের পর এক শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামছেন নানা রকমের দাবি নিয়ে। সরকার সকলের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু ২০১৮ সালেই তাঁদের ভাতা, বেতন, ইপিএফ, মেডিক্যাল সুবিধা— সব কিছু বাড়ানোর পরেও ২০১৯ সালে তাঁদের ফের আন্দোলনে সামিল হওয়া অযৌক্তিক।"
পার্থ আরও জানান, পার্শ্বশিক্ষকেরা যে দাবি করেছেন কেন্দ্রের তরফে তাঁদের জন্য টাকা আসে কিন্তু রাজ্য সরকার দেয় না, এটি সম্পূর্ণ অসত্য। তাঁর কথায়, “শিক্ষকদের ক্ষতি করার কোনও মানসিকতা নেই সরকারের। আমরা চাই তাঁরা সুস্থ শরীরে কাজে ফিরুন। তাঁরা যদি নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন, তাহলে সেই নথিপত্র নিয়ে আমার দফতরে আসুন, আমি দেখব। আমি কাগজগুলো দেখতে চেয়েছি ওদের কাছে।”
নভেম্বর মাসের গোড়ায় বেতন কাঠামো-সহ চার দফা দাবিতে সল্টলেকে আন্দোলন শুরু করেছিলেন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা। সেই আন্দোলন থেকেই শুরু হয় অনশন। কিন্তু দিনের পর দিন পেরোলেও তাতে কোনও হেলদোল ছিল না সরকারের।
উল্টে দিন কয়েক আগে আন্দোলনকারীদের শোকজ করা হয় শিক্ষা দফতরের তরফে। কোনও আগাম অনুমতি বা ঘোষণা ছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত থাকা পার্শ্বশিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, “ছাত্ররা ক্লাসে বসে, অথচ ক্লাস হচ্ছে না। কারণ শিক্ষকেরা রাস্তায় বসে আছেন। সরকারি চাকরি করছেন অথচ কাজ করছেন না। আমাদের জানার অধিকার আছে, কেন তাঁরা কাজ করছেন না। ওঁদের যা দাবি, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব। কিন্তু ওঁরা ক্লাস না করিয়ে রাস্তায় বসে বলছেন কোর্টে যাব। কোর্টে গেলে যাবেন, কী করার আছে!”
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণে কোনও নজরই নেই সরকারের। তাই তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দাবি যতক্ষণ না পূরণ হবে, ততক্ষণ অনশন চলবে। রাজ্যে মোট ৪৮ হাজার পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন। বিকাশ ভবনের সামনের অবস্থানে যোগ দেন প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক। ৪৬ জন অনশন করছেন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা।
গত জুলাই মাসে দীর্ঘ অনশনের পর জয় পেয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। দাবি ছিল গ্রেড পে বাড়াতে হবে। শেষমেশ আন্দোলনের তীব্রতার সামনে মাথা ঝোঁকাতে হয় সরকারকে। ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড হয় ৩৬০০ টাকা। কিন্তু তার পর অন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দু’সপ্তাহ আগেই শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল বাঘাযতীন এলাকা। শিক্ষকদের মিছিল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে এগোতে শুরু করলে তা আটকে দেয় পুলিশ। তা নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রেফতারও করা হয় বেশ কয়েক জন শিক্ষক আন্দোলনের নেতানেত্রীকে। এবার ফের আন্দোলনের ময়দানে নামেন পার্শ্বশিক্ষকরা।
আংশিক জয় পেলেন সেখানেও।