
শেষ আপডেট: 19 December 2022 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পাকা বাড়ি তৈরি হচ্ছে। তবুও আবাস যোজনায় পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রীর নাম ( Pannchayet pardhan wife name in awas yogana list ) ! এই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের ( Burdwan ) গলসিতে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরাও।
গলসির পারাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শাজাহান শেখের বাড়ি অর্ধেক তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। ভূগর্ভের দুটি ঘরে কয়েকমাস ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। তবে সম্প্রতি আবাস যোজনার যে তালিকা এসেছে, সেখানে রয়েছে শাজাহানের স্ত্রী ববিতা বেগমের নাম। তবে শাজাহান ও ববিতার দাবি, বিষয়টা নজরে আসতেই তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পারাজ গ্রামের বাসিন্দা বাপি মণ্ডল বলেন, ' ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে দোতালা বাড়ি নির্মাণ করছে প্রধান। সেই বাড়িতে আবার ভূগর্ভস্থ ঘর রয়েছে। তাও প্রধান নিজের সিস্টেমে নিজে পরিবারের নামে বাড়ি করে নিচ্ছে। অথচ গ্রামের গরিব মানুষ সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাচ্ছে কিনা প্রধানের তা দেখার প্রয়োজন নেই। '
তাছাড়া প্রধানের কোনও আয়ের উৎস নেই, তাহলে এতবড় বাড়ি হচ্ছে কীভাবে, প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ চ্যাটার্জ্জী বলেন, 'এটা অবাস্তব কিছু নয়। এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ওই বাড়িটি কোনও গরিব মানুষ পাক, এটাই আমরা চাই।'
বড় পর্দায় ফের ডক্টর বক্সী! সমুদ্রতীরের রিসর্টে খুন, তার তদন্তেই সামনে আসবে মেডিক্যাল দুর্নীতি
বিষয়টি সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়। যাঁর নাম তালিকায় রয়েছে সেই পারাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ সাজাহান প্রধানের স্ত্রী ববিতা বেগম বলেন, ' আমি সরকারের দেওয়া ওই বাড়িটি চাই না। আমরা ব্যাঙ্ক থেকে মোট সাড়ে সাত লাখ টাকা লোন নিয়ে বাড়ি শুরু করেছি।'
পঞ্চায়েত প্রধান শেখ সাজাহান জানান, ২০১৮ সালে তাঁর মাটির বাড়িটি ভেঙে গিয়েছিল। তখন পঞ্চায়েতের স্টিয়ারিং কমিটি তাঁর নামটি পাঠিয়েছিল। তাঁর কথায়, ' এখন আমি ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে বাড়ি শুরু করেছি। যা অবশিষ্ট আছে তা আমি আস্তে আস্তে করে নেব। বর্তমানে আমার ওই সরকারি বাড়িটার প্রয়োজন নেই। বাড়ির তদন্তে আসা সরকারি কর্মীদের আমি আমার নামটি লিস্ট থেকে বাদ দিতে বলেছি। আমি চাই ওই বাড়িটা কোনও গরিব মানুষকে দিক সরকার।'
প্রধানের এমন বক্তব্যের পরেও অবশ্য আবাস যোজনায় তাঁর পরিবারের নাম থাকা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।