দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোনটা আসার পরেই চমকে উঠেছিলেন যাত্রী। ট্রেন তখন দুরন্ত গতিতে ছুটছে। ওপারের কণ্ঠ জানিয়েছিল করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ। তারপরেই যাকে বলে তুলকালাম কাণ্ড। পাশের সিটেই বসে করোনা রোগী, খবর ছড়াতেই আতঙ্কে চেঁচামেচি জুড়ে দেন ট্রেনের যাত্রীরা। কামরা ছেড়েও পালিয়ে যান অনেকে। দূরপাল্লার ট্রেনে করোনা রোগীও সহযাত্রী, এই খবর ছড়াতেই হূলস্থূল বেঁধে যায় দেহরাদূনগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে।
৪৮ বছরের ওই ব্যক্তি ঋষিকেশের শ্যামপুরের বাসিন্দা। নয়ডার একটি ব্যাটারি কারখানায় কাজ করেন। রবিবার দুপুরে গাজিয়াবাদ থেকে তিনি ট্রেনে উঠেছিলেন। তার আগে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দিয়ে এসেছিলেন নয়ডায়। মাঝপথেই ফোন আসে। তাঁকে জানানো হয় যে করোনা পজিটিভ।
ব্যক্তির বক্তব্য, তাঁর শরীরে কিছু উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। অফিস কর্তৃপক্ষই তাঁকে করোনা টেস্ট করাতে বলে। ট্রেনে ওঠার আগের দিনই নমুনা জমা করে আসেন ল্যাবরেটরিতে। সেই টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ জানার পরে ট্রেন থেকেই তিনি কোভিড কন্ট্রোল রুমের টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। ট্রেনেই একজন করোনা রোগী রয়েছেন এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ট্রেনেই। আতঙ্কিত যাত্রীরা খবর দিয়ে দিয়েছেন পুলিশে। শেষমেশ হরিদ্বারে ট্রেন থামিয়ে ওই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নিয়ে যায় জিআরপি।
হরিদ্বারের স্টেশন হাউস অফিসার অনুজ সিনহা বলেছেন, করোনা সন্দেহে থাকা এক ব্যক্তি কীভাবে ট্রেনে উঠতে পারেন সে বিষয়ে গাজিয়াবাদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। তা না করে তিনি দিব্যি ট্রেনে সফর করছেন। নয়ডার যে অফিসে ওই ব্যক্তি কাজ করেন সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। জানা গেছে, কাজের ব্যাপারেই তিনি দেহরাদূনে যাচ্ছিলেন।
সংক্রামিত ব্যক্তির যদিও বক্তব্য তিনি নাকি বুঝতেই পারেননি তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসবে। আর এত তাড়াতাড়ি টেস্ট রিপোর্ট চলে আসবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। হরিদ্বারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডক্টর সরোজ নৈথানি জানিয়েছেন, স্টেশন থেকেসোজা ওই ব্যক্তিকে মেলা হাসপাতালের কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে একই কামরায় থাকা ২২ জনকে মহেশ্বরী সেবা সদল হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁরা রাজস্থান ও হরিয়ানার বাসিন্দা। প্রত্যেকেরই কোভিড টেস্ট করানো হবে।