
শেষ আপডেট: 18 May 2022 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে’র মৃত্যুর (Pallavi Death Case) ঘটনায় সাগ্নিক চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Police) । ক্রমশই জটিল হচ্ছে এই মৃত্যু রহস্য। এরই মধ্যে জগাছার বাসিন্দা তরুণী সৌমি মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাতেও সাগ্নিককেই দায়ী করলেন ওই তরুণীর বাবা-মা।
সৌমির বাবা-মা অজয়কুমার মণ্ডল ও ইলা মণ্ডল দাবি করেন, ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাঁদের মেয়ে সৌমির। সাগ্নিকের সঙ্গে তাঁর ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে টানাপড়েনের জেরেই মারা যায় তাঁদের মেয়ে। ফোর্ট উইলিয়াম সেন্ট্রাল স্কুলে পড়ত দুজনে। বারো ক্লাসে পড়ার সময় নিজের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় সৌমির। দুজনে প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সাগ্নিক অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখত বলে অভিযোগ করেছেন অজয়বাবু। তিনি বলেন, নানাভাবে সৌমির উপর মানসিক অত্যাচার চালাত সাগ্নিক। দুজনের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতিও হয়েছে।
মেয়ের মৃত্যুর জন্য সাগ্নিক দায়ী বলে মনে করলেও তখন আইনের সাহায্য নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই দম্পতি। তাঁরা বলেন, সাগ্নিক স্কুলে সৌমির থেকে এক ক্লাস উঁচুতে পড়ত। তাঁদের মেয়ে যখন ক্লাস এইটে পড়ে, তখন থেকেই সাগ্নিকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখত সে। এই নিয়েই সারাক্ষণ টানাপড়েন চলত। তাঁদের মেয়ের পড়াশোনার ক্ষতিও হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ মেলে।
টেলি অভিনেত্রী পল্লবী দে'র মৃত্যু রহস্যের তদন্তে নেমে অভিনেত্রীর লিভ ইন পার্টনার সাগ্নিক চক্রবর্তীকে মঙ্গলবারই গ্রেফতার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। রবিবার থেকে লাগাতার জেরা করার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সাগ্নিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৩, ৩৪১, ৪০৩ ৪০৬, ৪২০, এবং ১২০(বি) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অর্থাৎ খুনের অভিযোগও আনা হয়েছে এফআইআর-এ।
মেয়ের মৃত্যুর পর পল্লবীর বাবা সাগ্নিকের নামে প্রতারণা, টাকা তছরুপ, শারীরিক নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সাগ্নিককে ম্যারাথন জেরা করে পুলিশ তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছে। সেই অসঙ্গতি মূলত তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থ ও তাঁর প্রকৃত উপার্জন ও আয়ের উৎস সংক্রান্ত। দেখা গিয়েছে, তাঁর আয় ও ব্যয়ের মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে।
দিদি নম্বর ওয়ানে মায়ের সঙ্গে খুনসুটি, প্রেম নিয়ে আড্ডার ক্লিপিং ভাইরাল, নেই শুধু পল্লবী
গত রবিবার পল্লবীর মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ থানায় ডেকে পাঠায় সাগ্নিককে। একপ্রস্থ জেরা করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। সোমবার পল্লবীর বাবা নীলু দে, সাগ্নিকের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ফের তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সোমবার রাত থেকে তাঁকে টানা জেরা করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক অতুল ভি-র উপস্থিতিতে গড়ফা থানায় সাগ্নিককে ধারাবাহিক জেরা করা হয়। পরে রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।