দ্য ওয়াল ব্যুরো: না, এভাবে সারা দুনিয়ার সামনে মুখ পুড়বে জানলে কি আর করোনা অতিমারী কালে আম-কূটনীতি চালাতেন ইমরান খান? একটা-দুটো দেশ হলে না হয় মানা যেতে, ৩২টির মধ্যে একাধিক দেশই জানিয়ে দিল, না, তোমাদের আম নেব না! এমনকী সেই তালিকায় চিন পর্যন্ত আছে!
বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা পাকিস্তান। সম্পর্ক মেরামত, জোরদার করার চেষ্টায় আম-কূটনীতির কৌশল নিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ৩২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এসপ্তাহের গোড়ায় পেটি পেটি আম উপহার পাঠায় ইসলামাবাদ। পাক বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, চিন, আমেরিকা, তুরস্ক, ব্রিটেন, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, রাশিয়া, নেপাল সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আম পাঠানো হয় পাক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির তরফে। পাকিস্তানে নানা জাতের সুস্বাদু আমের ফলন হয় যা অন্য দেশে সচরাচর মেলে না। চৌসা, আনোয়ার রাত্তোল, সিন্ধারি সহ একাধিক প্রজাতির আম পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু করোনা অতিমারী, কোয়ারান্টিন নিয়মবিধির কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানের আম কূটনীতি সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করে একাধিক রাষ্ট্র সেই আম ফেরত্ পাঠিয়েছে। প্রত্যাখ্যানকারীদের তালিকায় আমেরিকা, পাকিস্তানের সব মরসুমের বন্ধু চিনও আছে! ফ্রান্স পাকিস্তানের পাঠানো আম গ্রহণ না প্রত্যাখ্যান করবে, এখনও জানা যায়নি। তবে পাকিস্তানের কাছে সবচেয়ে বড় ধাক্কা চিনের আম গ্রহণে সম্মত না হওয়া। শোনা যায়, পাকিস্তান-চিন মজবুত বন্ধুত্বের বড় মাধ্যম আম-কূটনীতি। সেই ছয়ের দশকে তত্কালীন পাক বিদেশমন্ত্রী মিঁয়া আরশাদ হুসেইন নাকি মাও জেদং-কে আম পাঠিয়েছিলেন। তারপর থেকে প্রতি গ্রীষ্মেই পাকিস্তানি আমে রসনাতৃপ্তি হয়েছে চিনা নেতাদের। কিন্তু এবার ‘না’ শুনতে হল পাকিস্তানকে।
কানাডা, নেপাল, মিশর, শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তানের পাঠানো উপহার গ্রহণে অসম্মত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে আম-কূটনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার পর পাকিস্তানের কী প্রতিক্রিয়া, জানা যায়নি।
ভারতেও আম পাঠায় পাকিস্তান। ২০১৫য় পাকিস্তানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তত্কালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকেও আম উপহার পাঠিয়েছিলেন দুদেশের মধ্যে সদ্ভাব বাড়াতে। একটি সূত্রের দাবি পাকিস্তান তাদের আকাশসীমার ভিতরে ড্রোন পাঠানোয় ভারতকে অভিযুক্ত করলেও সরকারি চ্যানেলেই মোদীকে আম পাঠিয়েছিল।