দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুহু করে ছড়াচ্ছে নভেল করোনা ভাইরাস। মারণ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রঙের উৎসব থেকে এবার দূরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার দেশের সমস্ত রাজ্যের চিকিৎসকদের করোনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে দিল্লিতে বিশেষ কর্মসূচি নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
শুক্রবার রাজধানীতে করোনা নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শিবির ডেকেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেখানে প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজনের প্রতিনিধিদলকে ডাকা হয়েছে। বাংলা থেকে ওই শিবিরে যোগ দিচ্ছেন এসএসকেএম, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, বেলেঘাটা আইডি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নোডাল অফিসাররা। রাজ্যে ফিরে তাঁরা আবার প্রশিক্ষণ দেবেন অন্য চিকিৎসকদের।
শুক্রবার করোনাভাইরাস নিয়ে নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন দুপুর তিনটের সময় নবান্নে হবে এই বৈঠক। জানা গেছে, বৈঠকে থাকবেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও অন্যান্য কর্তারা। মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদেরও হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেবেন জেলাশাসকরাও। অনুমান করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকে একাধিক নির্দেশ দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
করোনাভাইরাসের আক্রমণে চিনের অবস্থা ভয়াবহ। তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। চিনের বাইরেও ছড়াতে শুরু করেছে অসুখ। ইরানে মারা গেছেন দেড়শো জনেরও বেশি, ইতালিতে মৃত ১৪৩ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৮০টি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
'হু' প্রকাশিত ঝুঁকির দেশগুলির তালিকায় আগেই ছিল ভারত। সে ঝুঁকির আশঙ্কা সত্যি করে ভারতে ইতিমধ্যেই ৩০ জনের শরীরে ধরা পড়েছে এই ভাইরাস। তাঁদের মধ্য ১৬ ইতালীয় পর্যটক। কেরল থেকে শুরু হয়েছিল এই রোগের আক্রমণ। তার পরে তেলেঙ্গানায় ধরা পড়েন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক রোগী। এখন সে অসুখ এসে পৌঁছেছে দিল্লিতে। সকলকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিকিম-ভূটান সীমান্তে পর্যটনেও বিরাট প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে তার জন্য কেন্দ্রে-রাজ্য সব স্তরেই শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা।