নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে আজ বৈঠক বিরোধীদের, থাকছেন না মমতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বিকালে দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রে বিজেপির বিরোধী দলগুলি। সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা সিএএ এবং প্রস্তাবিত নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে রাজনৈতিক পর্যালোচনা করবে দলগুলি। ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সারা দেশ যখন সরব
শেষ আপডেট: 13 January 2020 03:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বিকালে দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে কেন্দ্রে বিজেপির বিরোধী দলগুলি। সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা সিএএ এবং প্রস্তাবিত নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে রাজনৈতিক পর্যালোচনা করবে দলগুলি। ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সারা দেশ যখন সরব তখনই তাঁদের এই বৈঠক। এই বৈঠক থেকে বিরোধী ঐক্যের ইঙ্গিত দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন যে এই বৈঠকে তিনি যোগ দিচ্ছেন না। সূত্রের খবর, বৈঠকে নাও যোগ দিতে পারেন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) নেত্রী মায়াবতী।
গত সপ্তাহে বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা বনধের বিরোধিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনধ সফল করতে বাম ও কংগ্রেস পথে নামলে তার তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল। জায়গায় জায়গায় তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে বনধ সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দেন যে তিনি ওই বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন না। তিনি জানান যে এই বৈঠকের ভাবনা তাঁরই ছিল। রাজ্যে বনধের পরের দিন মমতা বলেছিলেন যে কংগ্রেস ও সিপিএম এরাজ্যে যা করেছে তার পরে তাঁর পক্ষে আর ওই বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “এনআরসি ও সিএএ নিয়ে আমিই প্রথম আন্দোলন শুরু করেছিলাম। কিন্তু কংগ্রেস ও সিপিএম যেটা করছে সেটা আন্দোলন নয়, সেটা ভাঙচুর।”
রাজস্থানের কোটায় শিশুমৃত্যু নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি কংগ্রেসের ‘মহিলা সাধারণ সম্পাদক’ কোটায় গিয়ে মৃত শিশুদের অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা না করেন তা হলে বুঝতে হবে উত্তরপ্রদেশে তিনি যে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন সেটা স্রেফ রাজনৈতিক নাটক।

উত্তরপ্রদেশে সিএএ নিয়ে হিংসাত্মক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে গুলিতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে প্রতিবাদীদের। উত্তরপ্রদেশ সরকার অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবারই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বলেছিলেন যে “নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন পক্ষপাতদুষ্ট ও বিভেদমূলক, এর উদ্দেশ্য কী তা প্রত্যেক দেশপ্রেমিক, সহনশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয় মাত্রই বুঝতে পেরেছে, এই আইন ধর্মের ভিত্তিতে ভারতীয়দের বিভক্ত করবে।” দিল্লিতে কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি এই কথা বলেছিলেন। তাঁর দল চায় এখনই এই আইন প্রত্যাহার করা হোক।
সারা দেশেই বিচ্ছিন্ন ভাবে এই আইনের বিরোধিতায় প্রতিবাদ হয়েছে। দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ছাত্রদের প্রতিবাদে পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়েছে দেশে। হিংসা ছড়ানোর জন্য বিজেপি প্রথম থেকেই দায়ী করে আসছে কংগ্রেসকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিকত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তাঁরা নিজেদের রাজ্যে সিএএ এবং কার্যকর করতে দেবেন না।