দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটে (election) জিততে সংগঠন (organisation) লাগে। মুখ (personal charisma) দেখে ভোট আসে না। সাফ কথা দিলীপ ঘোষের (dilip ghosh)।
দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বলেন, ‘আমি কখনই ভাবিনি পাঁচ বছরে ক্ষমতায় চলে আসব। ৪ থেকে থেকে ভোট বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়ে যাবে। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে যাঁরা ছিল তাঁদের মানুষ মেনে নিতে পারেননি। তাই মানুষ বিকল্প চেয়েছিল। আমরা দিতে পেরেছি। এতদিনে যদি এতটা হতে পারে, আগামী পাঁচ বছরে বাকিটাও হয়ে যাবে। এখন তো ক্ষমতা বেড়েছে, সংগঠন বেড়েছে।’
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় 'গুজরাত মডেল'কে (gujarat model) হাতিয়ার করেছিল বিজেপি (bjp)। বাংলার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকার কারণেই বাংলার মানুষ বিজেপিকে মেনে নেয়নি বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। সেই সুরেই দিলীপবাবু মেনে নেন, ‘সব রাজ্যেরই আলাদা আলাদা রাজনীতি থাকে। সেই মতোই লড়াই করতে হয়। আমরা তাই করছিও। আর তাই জন্যই এতগুলো আসন পেয়েছি বাংলায়।’
নির্বাচনী অঙ্ক বলছে, বাংলার ২৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট বেশ কার্যকর ভোটের ময়দানে। বিশেষত ২৫ শতাংশ বাঙালি মুসলিম ভোট। বামফ্রন্ট বা তৃণমূল কখনই এই ভোটকে উপেক্ষা করেনি। কিন্তু বিজেপির মুসলিম বিরোধিতা নানা সময়ে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। সেখানে বাংলায় কি ভূমিকা থাকবে সেই নিয়েও প্রশ্ন ছিল মানুষের মনে। দিলীপ ঘোষ তা মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমরাই তো বলেছি, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।' তবে মুসলিম ভোট ছাড়া চালকের আসনে বসা যাবে না, সেকথা মানতে নারাজ তিনি।
তাঁর কথায়, ‘আমরা কাউকে বাদ দিতে আসিনি। কিন্তু মুসলিম ভোট ছাড়া জেতা সম্ভব নয়, সেটা আমরা বিশ্বাস করি না। কারণ অন্যান্য রাজ্যে এর থেকেও বেশি মুসলিম ভোট আছে, সেখানে বিজেপি সরকার আছে। যেমন অসম। সেখানে সংখ্যালঘুরা ৩৪ শতাংশ।’ এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘মুসলমানরাই ঠিক করুক তাঁরা স্রোতের সঙ্গে, বিকাশের সঙ্গে থাকবেন, না কি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কারণে কোণায় পড়ে থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরাই সবচেয়ে গরিব। এটা আমার কথা নয়, রিপোর্ট বলছে। এখন মুসলমানরাই ঠিক করুক তারা গরিব, অশিক্ষিত হয়ে শুধুমাত্র ভোটার হয়ে থাকবেন কি না। বিজেপি কারও সঙ্গে ভেদাভেদ করেনি, করবে না। দেশের সব মানুষই আমাদের। সেটা মোদীই করে দেখিয়েছেন। গরিবদের জন্য মোদীর করা প্রকল্প বেশি সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরাই পেয়েছেন।’
বহিরাগত তত্ত্ব নিয়ে বাংলা রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি নির্বাচনের আগে। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বারবার বাংলায় ছুটে আসা নিয়ে একজোটে তৃণমূল বহিরাগত তত্ত্ব দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে। তবে কোথাও গিয়ে মানুষের মনেও এই বহিরাগত রাজনীতি ছাপ ফেলেছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। দিলীপের সাফাই, বাংলায় পর্যাপ্ত নেতা ও মুখ না থাকার জন্যই বারবার বাইরের নেতারা বাংলায় প্রচারে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষকে মোটিভেট করার মতো তেমন কোনো নেতা ছিল না বাংলায়। সেইজন্য অনেক নেতা এসেছে বাইরে থেকে।’ তাঁর কথায়, এতে অসুবিধার কী আছে! যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে ছিলেন তখন ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাজীব গান্ধী অনেকেই এসেছেন বাংলায়। কিন্তু কংগ্রেসের মতো আমাদের পরিচিত মুখ ছিল না। তাই বাইরে থেকে কম নেতা এসেছেন।"
সরকার গড়তে না পারলে বিধানসভায় বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হয়েছে। ভোটও বেড়েছে বিপুল। অনেকেই মনে করেন, এর পিছনে আছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে দেখেই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ। কিন্তু মুখ দেখে যে ভোট আসে না, সেই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘পাঁচবছর আগের লোকসভা ভোটের সময়ও মোদী ছিলেন। তখন তো আজকের ভোট পায়নি বিজেপি! অনেক নেতা ছিলেন। জিততে গেলে সংগঠন করতে হয়। পাঁচ বছরে সেটা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে তখন আর বাইরে থেকে কাউকে আমদানি করতে হবে না। এখানকার নেতারাই জয় হাসিল করবে।’