দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের যে সব রাজ্যে করোনা আক্রান্তের খোঁজ বেশি মিলেছে তার মধ্যে মহারাষ্ট্র, করলের পরেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। নয়ডায় এখনও পর্যন্ত সংক্রামিতের সংখ্যা চার। সূত্রের খবর, ইন্দোনেশিয়া ফেরত এক যুবকের মধ্যে সিওভিডি ১৯ পজিটিভ। তাঁকে রাখা হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
নয়ডা সেক্টর ৪১-এর বাসিন্দা ওই যুবক ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিরেছিলেন। চারদিন আগে জ্বর ও শ্বাসের সমস্যা নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার। তাতেই ধরা পড়ে ওই যুবক সিওভিডি ১৯ আক্রান্ত। গ্রেটার নয়ডার গর্ভমেন্ট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সে চিকিৎসা চলছে ওই যুবকের। চিফ মেডিক্যাল অফিসার অনুরাগ ভার্গব বলেছেন, ওই যুবকের শরীরে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম ধরা পড়েছে। মনে করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকেই সংক্রমণ নিয়ে তিনি ফিরেছিলেন। প্রথমে উপসর্গ ধরা পড়েনি। পরে তাঁর শ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। এই যুবকের পরিবারের লোকজন, আশপাশের বাড়ি ও যাঁদের সংস্পর্শে তিনি এসেছেন সকলেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যুবকের বাড়ি ও তাঁর আশপাশের কয়েকটা বাড়িকে স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।
নয়ডায় প্রথম করোনা আক্রান্ত দিল্লির এক বাসিন্দা। তাঁর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার পরেই বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল নয়ডার একাধিক স্কুল। কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়ছিল স্কুল পড়ুয়াদেরও। মঙ্গলবার নয়ডা সেক্টর ৭৮ ও সেক্টর ১০০-র দুই বাসিন্দার মধ্যে সিওভিডি ১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। দু’জনেই ফ্রান্স থেকে ফিরেছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁদের পরিবারের লোকজনকেও।
নয়ডায় আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত যে কোনও বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। জায়গায় জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। জেলাশাসক বি এন সিং জানিয়েছেন, জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালগুলিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড বাড়ানো হচ্ছে। গৌতম বুদ্ধ ইউনিভার্সিটির হোস্টেলের কয়েকটি ঘরকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানানো হচ্ছে। সংক্রমণ সন্দেহে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। অন্যদিকে নয়ডা সেক্টর ৩৯-এ ৪০০ বেডের নতুন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি হচ্ছে।
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংক্রমণের নিরিখে ভারত এখনও স্টেজ ২ অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিদেশ থেকে আসা লোকজনের সংস্পর্শে এসে তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতরা ওই রোগে আক্রান্ত হন। একে বলে লোকাল ট্রান্সমিশন। এতে অল্পসংখ্যক লোক আক্রান্ত হন। কীভাবে তাঁরা আক্রান্ত হলেন, তা সহজে বোঝা যায়।