
শেষ আপডেট: 3 May 2023 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইলে পর্ন সিনেমা দেখছিল নাতি। পিছন থেকে দেখে ফেলেছিলেন দিদিমা। তাতেই ভয় পেয়ে দিদিমার গলা টিপে ধরে নাতি। বৃদ্ধার কাপড় খুলিয়ে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুন করে নাতি। এমন ঘটনায় হতবাক তাঁর পরিবারের লোকজন।
এই ঘটনা ঘটেছে, ময়নাগুড়ির (Maynaguri) দোমোহনি পুরানবাজার এলাকায়। মৃতার নাম ঝর্না মোহন্ত (৬৫)। পেশায় তিনি পরিচারিকা। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বাড়ির পাশেই বিয়ে দিয়েছেন। আর একজনের অন্য যায়গায়। মেয়েদের বিয়ের পর বাড়িতে একাই থাকতেন বৃদ্ধা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে তাঁর মেয়ে সুমিত্রার বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিন মেয়ের বাড়িতে এসে কিছুটা সময় কাটিয়ে যেতেন বৃদ্ধা। কিন্তু গত রবিবারের পর থেকে আর তাঁর দেখা পাওয়া যাচ্ছিলো না। মোবাইলও বন্ধ ছিল, ফলে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারছিলেন না মেয়েরা।
মঙ্গলবার রাতে দিদিকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের বাড়িতে যান সুমিত্রা। তাঁরা দেখতে পান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। ভেতর থেকে পচা গন্ধ আসছে। সন্দেহ হওয়ায় দড়জা ভেঙে ভেতর ঢোকেন দুই মেয়ে।
ঘরের ভেতর ঢুকে হতভম্ব হয়ে যান তাঁরা। দেখতে পান তাদের মায়ের মৃতদেহ অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দৃশ্য দেখে চিৎকার করেন তাঁরা। এরপর ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। দেখতে পান শাড়ি কাপড় ছড়ানো। বিছানার উপর হাত বাধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে বৃদ্ধার দেহ।
‘ক্রিকেট থেকে পালিয়ে গিয়ে বড় বড় কথা!’ রজত শর্মাকে তোপ গম্ভীরের
খবর পেয়ে ছুটে আসে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পুলিশের ধর্ষন বলে মনে হলেও মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পরে জানা যায় ধর্ষণের কোনও চিহ্ন মেলেনি। তবে গলায় গভীর ক্ষত ছিল।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে বৃদ্ধার মোবাইল ফোন থাকলেও ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। আর এতেই সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে পুলিশের মনে। বুধবার সকালে সেটিকে ট্র্যাক করতেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় নাতি সম্রাটের কাছে।
অপরদিকে সম্রাটের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করতেই জানা যায় ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার অনেক রাত পর্যন্ত দিদিমার বাড়িতেই ছিল সম্রাট। এরপর শুরু হয় জেরা পর্ব। জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে প্রথম বর্ষের ছাত্র সম্রাট দাস। জানায়, ওই দিন রাতে রান্না করছিলেন দিদিমা। বিছানায় বসে অশ্লীল ছবি দেখছিল সে। পিছন থেকে এসে তা দেখে ফেলেন দিদিমা। বাড়ির সকলের কাছে তার এই অপকর্ম ফাঁস করে দেবে বলে জানায়। পুলিশকে সম্রাট জানায়,ঘটনা জানাজানি হলে সকলে খারাপ ভাববে। এই ভেবেই মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। মূহুর্তের মধ্যে দিদিমাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বিছানার উপর ফেলে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর হাত বেধে শাড়ি, কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘর আটকে বাড়ি চলে যায়। সম্রাটের ধারণা ছিল, ঘটনা নজরে এলে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে ধরে নেবে সকলে।
ঘটনায় হতবাক সম্রাটের বাবা মা। এক দিকে মাকে হারানোর যন্ত্রণা, অ্য দিকে সেই মাকে খুন করার অভিযোগে পুলিশ ছেলেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। দিশাহীন সুমিত্রা দাস বলেন," আমি ভাবতেই পারছিনা ছেলে এমন ঘটনা ঘটাবে"।
পুলিশ সুপার উমেশ খান্ডবাহালে জানান, বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় নাতি সম্প্রাট দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করবে পুলিশ।