
শেষ আপডেট: 1 August 2023 08:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, কলকাতা: সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত ভোটে জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে শাসকদলের প্রার্থীদের জাল শংসাপত্র (Fake Caste Certificate) দাখিলে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক এবং উলুবেড়িয়া-২ নম্বর ব্লকের বিডিও-র বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট দুই আধিকারিককে সাসপেন্ড করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু উলুবেড়িয়া নয়, প্রশাসনের একাংশের মদতে রাজ্যজুড়ে এমনই গুচ্ছ গুচ্ছ ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ১০০-রও বেশি জাল শংসাপত্র জোগাড় করেছি। আগামী ১৫ দিনে আরও তথ্য জোগাড় করব। শুধু ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। যাঁরা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেই সমস্ত সরকারি অফিসার ও কর্মীদের গ্রেফতারির পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে বেতনের টাকাও ফেরত দিতে হবে।” এ ব্যাপারে হাইকোর্টেও আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
১৫ অগস্টের পর জনজাতির ভুয়ো শংসাপত্রের তালিকা তথ্যপ্রমাণ সহ সিডি আকারে প্রকাশ করার কথা জানিয়ে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, শুধু পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী তালিকাতেই নয়, সরকারি অফিসে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রকৃত জনজাতিদের বঞ্চিত করে ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করে তৃণমূলের লোকজনকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে রাজ্য জুড়ে বাড়তে থাকা বেকারত্বের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূলের জমানায় ১২ বছরে ৬ লক্ষ সরকারি পদের অবলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। ৩০ লক্ষ ফাঁকা পদে কোনও নিয়োগ করছে না। পিএসসি চার বছর ধরে নোটিফিকেশন করছে না। এসএসসির কোনও খবর নেই। প্রাথমিকের কোনও খবর নেই। সব রিক্রুমেন্ট বোর্ডের কোনও খবর নেই। রাজ্যে ২ কোটি বেকার। তাঁদের আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি। ঠিকাচুক্তিতে ওয়েবেলের মাধ্যমে নিয়োগের নামে ভাইপোর অফিস থেকে পাঠানো লিস্টের ভিত্তিতে ৬০ হাজার লোককে ঢুকিয়েছেন।
শুভেন্দু বলেন, "আমরা তাঁদের হয়ে বলছি, কারণ এই ঠিকাচুক্তিতে নিযুক্ত কর্মীরা কষ্টে রয়েছে। এদের প্রতিবছর রিনিউল করাতে হয়। মিছিলে না হাঁটলে রিনিউল করবে না।" পুলিশের বেতন কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। টেনে এনেছেন সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রসঙ্গও। কটাক্ষের সুরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “যে ছেলেগুলোকে দিয়ে পঞ্চায়েতে ছাপ্পা মারালেন, সেই সিভিক ভলেন্টিয়ারদেরও বেতন মাত্র ৯ হাজার টাকা!”
তৃণমূলের সরকারকে ‘অমানবিক’, ‘বর্বর’, ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘স্বেচ্ছাচারী’ বিশেষণে অভিহিত করে শুভেন্দুর শ্লেষ, হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে ১০টা ধর্ণা মঞ্চ চলছে। এখানে সরকার নেই। সরকার থাকলে এভাবে দিনের পর দিন অরাজনৈতিক মঞ্চের তলায় ছেলেমেয়েদের কেন বসতে হবে! ওদের সঙ্গে আলোচনা করা গেল না। এদের মধ্যে কারও যদি ডেঙ্গি হয় তার দায়িত্ব কে নেবে। সামনে দুর্গাপুজো। কোনও মানবিকতা নেই এই সরকারের।
আরও পড়ুন: কালীঘাটের কাকুর বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন হলে অসুবিধে কোথায়, ইডিকে প্রশ্ন বিচারপতির