
শেষ আপডেট: 5 September 2023 06:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতারণার অভিযোগে অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Nusrat Jahan summoned by ED)। নুসরত একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার অধিকর্তা ছিলেন। সেই সংস্থা সস্তায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে বহু মানুষকে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ। এও অভিযোগ, ওই প্রতারণার টাকাতেই দক্ষিণ কলকাতায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছিলেন নুসরত। ওই প্রতারণা মামলাতেই আগামী মঙ্গলবার সিজিও কমপ্লেক্সে তাদের দফতরে নুসরতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে ইডি।
যে সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার নাম হল সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড (seven sense infrastructure pvt ltd)। ২০১১ সালে কোম্পানিটির পত্তন হয়। ২০১৪ সাল নাগাদ সেই কোম্পানি অন্যতম অধিকর্তা তথা ডিরেক্টর ছিলেন বাংলা ছবির প্রথম সারির অভিনেত্রী নুসরত।
নুসরত ও রাকেশের সেই সংস্থা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীদের প্রস্তাব দিয়েছিল, গড়িয়াহাট এলাকায় একটি আবাসন তৈরি করে তাঁদের কম দামে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। সে জন্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মীরা মাথা পিছু সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সংস্থার তরফ থেকে টালবাহানা ক্রমশ বাড়তে থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয়। তাঁদের বলা হয়, গড়িয়াহাটে ওই আয়তনের জমি পাওয়া যাচ্ছে না, হিডকোতে জমি দেওয়া হবে। তাতে ফ্ল্যাটের মাপও বড় হবে। টু বেডরুমের পরিবর্তে থ্রি বেডরুমের ফ্ল্যাট পাবেন তাঁরা। কিন্তু শেষমেশ তাঁরা কিছুই পাননি। তার পরই ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা সমষ্টিগতভাবে সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই সঙ্গে তাঁরা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। শুভেন্দুর নির্দেশে বিজেপির যুব নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা তাঁদের নিয়ে ইডি দফতরে গিয়ে নালিশ জানিয়ে আসেন। তার ভিত্তিতেই এবার বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামল ইডি।
তৃণমূল সাংসদের তলব প্রসঙ্গে শঙ্কুদেব বলেন, 'নুসরত জেলে যাবেন কি যাবেন না সেটা আমাদের কাছে বড় প্রশ্ন ন্য।আমাদের কাছে যেটা প্রশ্ন, যাঁরা এই প্রতারণায় প্রতারিত হয়েছেন তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। নুসরত প্রভাবশালী। তিনি বাইরে থাকলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে পারেন। সেইদিক বিবেচনা করে ইডি কড়া পদক্ষেপ নেবে, সেটাই স্বাভাবিক।'
নুসরতের দাবি ও হাজারো পাল্টা প্রশ্ন!
নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন তিনি। তাতে নুসরত দাবি করেছিলেন, তিনি বেআইনি ভাবে ফ্ল্যাট কেনেননি। নুসরত দাবি করেন যে সেভেন সেন্সেস কোম্পানি থেকে তিনি ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তার পর সেই ধার শোধও করে দিয়েছেন।
তাঁর কথায়, “১ কোটি ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকা লোন নিয়েছিলাম। সেই টাকা সুদ সমেত ফেরত দিয়েছি। আমার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টেও তার উল্লেখ রয়েছে।”
কিন্তু একজন কোম্পানির ডিরেক্টের এভাবে কোনও কোম্পানি থেকে ঋণ নিতে পারেন না। তা নিয়মসঙ্গত নয়। তাই পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়েন নুসরত। তা ছাড়া রাকেশ সিং আবার দাবি করেন, তাঁদের সংস্থা নুসরতকে কোনও ঋণ দেয়নি। নুসরত টাকা তুলেছিলেন। উল্টে রাকেশ সিংয়ে এও দাবি নুসরতের বোনের পড়াশুনার খরচও বহন করেছে ওই সংস্থা।
যশের কথার দাম রইল কোথায়?
নুসরতের বিরুদ্ধে নালিশ করতে ইডির কাছে গিয়েছিলেন শঙ্কু দেব পণ্ডা। সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, শহরে একটি অনুষ্ঠানে নুসরতের হাত ধরে দাঁড়িয়ে অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত বলেছিলেন, “ইডি ওঁকে ডাকবে না”। একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন যশ। সেই জোর থেকে কিনা কে জানে, যশের কথায় আলোড়ন পড়েছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, যশের বুঝি প্রভাব রয়েছে!
কিন্তু কোথায় কী! মঙ্গলবার সকালে জানা গেল, নুসরতকে ইডি ডেকে পাঠিয়েছে। আগামী মঙ্গলবারই হাজিরা দিতে হবে।
তৃণমূলের (TMC) বক্তব্য
নুসরতকে তলবের প্রশ্নে তৃণমূল (TMC) মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “ওটা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়। উনি বা ওনার আইনজীবী সঠিক জবাব দিতে পারবেন”। পরে তৃণমূলের এক রাজ্য নেতা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, এমন নয় যে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে বিজেপি নুসরতের পিছনে এজেন্সি লেলিয়ে দিয়েছে। এটা একটা সিরিয়াস প্রতারণা মামলা। এর দায় দল নেবে কেন?
আরও পড়ুন: যশ কি এখনও বিজেপিতে? নুসরতের প্রবল আত্মবিশ্বাস, ‘ইডি আমাকে ডাকবে না’