দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের সময়ে ভুয়ো টিকা দিয়ে প্রতারণার ঘটনায় এমনিতেই হই চই পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যেই আরও ভয়ানক জোচ্চুরি ধরা পড়ল বাঁকুড়ায়।
জেলার সোনামুখী এলাকার তিন নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সুস্থ মানুষকে রোগী সাজিয়ে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল হাজার হাজার টাকা। বিনিময়ে কিছু নগদ টাকা ধরিয়ে দেওয়া হত ওই নকল রোগীকে।
ওই অভিযোগের তদন্ত করতে নেমে আরও মারাত্মক জালিয়াতির তথ্য জানতে পেরেছেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। জানা গেছে, ওই তিনটি নার্সিংহোমের মধ্যে আনন্দময়ী নার্সিংহোমের একসময় লাইসেন্স থাকলেও তা পুনর্নবীকরণ হয়নি। এই তথ্য হাতে আসতেই বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের রামসাগর এলাকার ওই নার্সিংহোম বন্ধের জন্য ক্লোজার নোটিশ জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিশেষ চক্রের মাধ্যমে মোটা টাকার বিনিময়ে কিছু সুস্থ বা অল্প অসুস্থ মানুষকে বাঁকুড়ায় এনে ভর্তি করা হত এ সব নার্সিংহোমে। এরপর ওই ব্যাক্তির স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থেকে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তুলে নিত হাজার হাজার টাকা। বিনিময়ে অসুস্থতার ভান করে নার্সিংহোমে ভর্তি থাকা ব্যক্তিকে দেওয়া হত ওই টাকার একাংশ।
কিন্তু কুর্কীর্তির কথা চাপা থাকেনি। বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকার দুটি নার্সিংহোম ও ওন্দা ব্লকের রামসাগর এলাকার একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অভিযোগ জমা পড়ে স্বাস্থ্য দফতরে। এরপরই নড়ে চড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাঁকুড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর তিন সদস্যের একটি তদন্তকারী দল গঠন করে। তদন্তে নেমে চক্ষু কপালে ওঠে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির।
জানা যায় ওন্দা ব্লকের রামসাগর এলাকার অভিযুক্ত আনন্দময়ী নার্সিংহোমের বৈধ অনুমতিই নেই। গত তিন সপ্তাহ আগেই এই নার্সিংহোমের লাইসেন্স এর বৈধতা শেষ হয়ে যায়। লাইসেন্স বিহীন ভাবেই গত তিন সপ্তাহ ধরে চলছিল নার্সিংহোম। অথচ নার্সিংহোমের অ্যাডমিশন রেজিস্টার বলছে অন্য কথা। সেখানে দেখা যাচ্ছে এই নার্সিংহোমে গত ৩ জুলাই একটি রোগী ভর্তি হয়েছে। এক দিন রাখার পর ৪ জুলাই সেই রোগীকে রেফার করা হয়েছে অন্যত্র। শুধু এটাই নয় দেখা যাচ্ছে এই নার্সিংহোমে যাঁরা ভর্তি ছিলেন তাদের অধিকাংশই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বাসিন্দা।
এই দুই জেলা থেকে এই নার্সিংহোমের দূরত্ব অনেকটাই। অথচ বিষ্ণুপুরের দূরত্ব রামসাগরের থেকে কম এবং বিষ্ণুপুরেও অনেক নার্সিংহোম রয়েছে। তাহলে কেন বিষ্ণুপুরের নার্সিংহোম টপকে এত সংখ্যক পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার রোগী ভর্তি হয়েছিলেন এই নার্সিংহোমে, সে বিষয়টাও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে একটি রিপোর্ট আজ বাঁকুড়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে জমা করে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আনন্দময়ী নার্সিংহোম বন্ধের নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা এদিন নার্সিংহোমে পৌঁছানোর কিছু পরেই তড়িঘড়ি নার্সিংহোমের মূল দরজা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। নার্সিংহোমের তরফে মূল দরজার বাইরে একটি নোটিশ দিয়ে জানানো হয় আপাতত এই নার্সিংহোমের সমস্ত ধরনের পরিসেবা আপাতত বন্ধ থাকবে।