দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেবার বদলে মার। এক নার্সের অমানবিকতার চরম দৃষ্টান্ত সামনে এল পাটুলিতে। অযত্ন তো বটেই, ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে সংযুক্তা পাইক নামে ওই নার্সকে আটক করেছে পুলিশ।
পাটুলির ঘোষপাড়া লেনের বাসিন্দা ৮৫ বছরের সুকুমারী সাহার ছেলে, মেয়ে দু’জনেই চাকরি করেন। বৃদ্ধা মায়ের সর্বক্ষণ দেখভালের জন্যই বাড়িতে নার্স রেখেছিলেন তাঁরা। সংযুক্তা পাইক নামে ওই নার্স দীর্ঘ চার বছর ধরে সুকুমারী দেবীর শুশ্রূষার দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, বৃদ্ধার ছেলে মেয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেই সংযুক্তার আচরণ বদলে যেত। নানা ভাবে বৃদ্ধাকে হেনস্থা করতেন তিনি।
বৃদ্ধার মেয়ের দাবি, একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরে তাঁর চোখে পড়ে মায়ের হাতের নানা জায়গায় কালশিটে দাগ। শরীরেও ক্ষত রয়েছে। কী ভাবে এমন ঘটল জানতে সংযুক্তার উপর নজর রাখা শুরু করেন তিনি। মায়ের ঘরে লাগিয়ে দেন সিসিটিভি ক্যামেরা। সেখানেই ফুটে ওঠে সংযুক্তার আসল চেহারা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কখনও বৃদ্ধাকে মারধর করছেন সংযুক্তা, কখনও জোর করে তাঁকে উঠে বসানোর চেষ্টা করছেন, আবার কখনও জোর করে পাশ ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সেবার বদলে নার্সের চোখেমুখে ফুটে উঠছে বিরক্তি। এমনকি তাঁর বৃদ্ধা মাকে সময়মতো খাবার এবং ওষুধ কিছুই দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ করেছেন সুকুমারী দেবীর মেয়ে।
https://www.youtube.com/watch?v=d8UVaqS7sMw
গোটা ঘটনাটাই সিসিটিভি ফুটেজ-সহ তিনি পাটুলি থানার অফিসারদের জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নার্স সংযুক্তাকে আটক করে পুলিশ। সুকুমারী দেবীর মেয়ের বক্তব্য, পেশার স্বার্থে যাঁদের দিনের বেশিটা সময়তেই বাইরে থাকতে হয়, তাঁরাই বৃদ্ধা বাবা-মায়ের সেবার জন্য নার্স বা আয়া নিয়োগ করেন। সেবার দায়িত্ব যাঁরা নিজের কাঁধে তুলে নেন, তাঁদেরই এমন অমানবিক আচরণ সমাজের কাছে কী বার্তা দেবে? প্রশিক্ষিত সেবাকর্মীরাই যদি নিষ্ঠুরতার এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করে, তাহলে ভরসা করা যাবে কাদের উপরে? তাঁর দাবি, এমন ঘটনা ঘটতে শুরু হলে একদিন এই পেশার উপর থেকেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যাবে।