দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহিলাদের সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করায় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সংসদ সদস্য তথা বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ-র বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হল। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের বেড়ুগ্রামের এক মহিলা খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সৌমিত্রর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগেরই ভিত্তিতে কুরুচিকর মন্তব্য ও এলাকায় অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টির একাধিক ধারায় (৫০৪, ৫০৫ (১) (বি) ও ৫০৯) মামলা রুজু হয়েছে। এগুলির মধ্যে ৫০৫(১) (বি) ধারাটি জামিন অযোগ্য।
সাসদ সদস্যের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে চাপান-উতোর সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির তরফে অভিযোগ আনা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, "বিজেপির কালচারই হল মহিলাদের অসম্মান করা।"
এই বিষয়ে খণ্ডঘোষ থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, মামলা রুজু হয়েছে। আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে খণ্ডঘোষের বেড়ুগ্রামের দিঘিরপাড়ে বিজেপির একটি সভা ছিল। সেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে দলের রাজ্য যুব সভাপতিও বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহিলাদের সম্পর্কে তিনি কুরুচিকর মন্তব্য করেন বলে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বেড়ুগ্রামেরই বাসিন্দা মাম্পি বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর আরও অভিযোগ, মহিলাদের সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করার পাশাপাশি হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কেও কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন সাংসদ সদস্য। তাছাড়া তাঁর ভাষণে সাম্প্রদায়িক উস্কানিও ছিল। এর ফলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের পরিবেশ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জেলা যুবমোর্চার সভাপতি শুভম নিয়োগী বলেন, "আইনি এবং রাজনৈতিক পথে এর মোকাবিলা করা হবে। বিজেপির উত্থানে আতঙ্কে রয়েছে তৃণমূল। যেভাবে একের পর এক বিধায়ক, নেতা দল ছাড়ছেন, তাতে তারা দিশাহারা। তাই মিথ্যা মামলায় বিজেপির নেতা-কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। সভার পরে এলাকায় কোনও অশান্তি হয়নি। কোথাও কোনও গণ্ডগোলের খবর মেলেনি। তাই এ ধরনের অভিযোগের কোনও গুরুত্ব নেই।"
ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় এ বিষয়ে সাংসদ সদস্যের মন্তব্য মেলেনি। তা পাওয়া গেলেই এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।