
শেষ আপডেট: 6 December 2023 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: সন্ধ্যা থেকেই ফুল ভলিউমে বাজছিল ডিজে। ফাটছিল শব্দবাজি। বিকট আওয়াজে জেরবার হচ্ছিলেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা। কিন্তু পাশে দাঁড়ানোর জন্য পাননি কাউকেই। কারণ এটাই নাকি দস্তুর। যে কোনও অনুষ্ঠান, পুজা, পার্বন, বা উৎসব, হাসপাতাল লাগোয়া ইন্দিরা কলোনির মানুষজন মেতে ওঠেন এভাবেই। ভর্তি থাকা রোগীদের আত্মীয়রা জানান, অভিযোগ জানিয়েও ফল মেলেনি কোনও। কারণ কোনও এক ‘দাদা’ অনুগামীদের নাকি এড়িয়েই চলে পুলিশ-প্রশাসন।
ঘটনাচক্রে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ রায়গঞ্জের পৌর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে গিয়েছিলেন। শব্দদানবের তাণ্ডবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। তবে তাঁর বকাবকিতেও নাকি ফল মেলেনি। শব্দের দাপট কমেনি। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ পৌঁছে শব্দের তাণ্ডব রুখে দেয়। যদিও মেডিক্যাল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশদের ঘুম ভাঙেনি তখনও।
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় বলেন, “খুব জোরে শব্দ হচ্ছিল। আমাদেরই বুকে লাগছিল। আর যাঁরা ভর্তি রয়েছে তাদের কতটা কষ্ট হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।” মেডিক্যাল কলেজের মহিলা মেডিসিন বিভাগের এক স্বাস্থ্যকর্মী আনলেন আরও মারাত্মক অভিযোগ। তাঁর দাবি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাগোয়া পাড়ায় নাকি এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবাদ করেও কোনও ফল মেলে না। যে কোনও অনুষ্ঠান বা পুজোয় এভাবেই বাজি ফাটে, ডিজে বাজে। রায়গঞ্জ পুরসভার ওই ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটরের ছত্রছায়ায় থাকা মানুষদের বাস এখানে। আবার মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান তথা রায়গঞ্জ বিধানসভার বিধায়কেরও অনুগামী তাঁরা। তাই এই এলাকার মানুষদের ঘাটায় না কেউ।
রায়গঞ্জের পৌর প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস যখন রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়লেন, তখন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরতেই তিনি বলেন, “আমি বিতর্কের মধ্যে থাকিই না।’’ সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্ন ডিজে বাজছিল তো? গাড়িতে বসতে বসতে জেলার দুঁদে রাজনীতিবিদ সন্দীপের সহাস্য উত্তর “এখন তো বাজছে না।” প্রশ্ন, আপনি নাকি বন্ধ করালেন? সহাস্য উত্তর, “না না আমি থামাইনি, যার কাছে চাবি সেই থামিয়েছে৷”