দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত দিন ধরে হাওড়া স্টেশন চত্বরেই ছিলেন নদিয়ার নিখোঁজ নোডাল অফিসার অর্ণব রায়। তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক জেরা সারার পরে এমনটাই বলছে পুলিশ। জানিয়েছে, তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তা মোটেও সত্যি নয়। প্রসঙ্গত, ব্যতাইতলায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি বন্ধ।
সিআইডি সূত্রের খবর, হাওড়া স্টেশনের বিভিন্ন ওয়েটিং রুমেই এই ক'দিন থেকেছেন তিনি। ঘুরে বেড়িয়েছেন প্ল্যাটফর্মে। খাওয়াদাওয়াও করেছেন স্টেশনে। কখনও কখনও হয়তো স্টেশনের আশপাশেও বেরিয়েছিলেন তিনি। মোবাইল অফ করে রাখার কারণে তাঁর কোনও সন্ধান পাননি তদন্তকারীরা।
১৮ এপ্রিল দুপুর বেলা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন নদিয়ার নোডাল অফিসার অর্ণব রায়। ভোটের সময়ে এই আচমকা অন্তর্ধানে স্বাভাবিক ভাবেই বড় নাড়াচাড়া পড়েছিল সমস্ত মহলে। সৎ ও দায়িত্ববান এই অফিসারকে অপহরণ করা হল কি না, উঠেছিল সেই প্রশ্নও। এমনকী পরিবারের তরফে অভিযোগ উঠেছিল, ওই অফিসারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মাঝেমাঝেই দুর্ব্যবহারের শিকার হতেন অর্ণব।
তবে, তদন্ত শুরু করার পরে, পুলিশ ঘটনা পরম্পরা ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণে বুঝেছিল, এই ঘটনায় অর্ণব রায়কে গুমখুন বা অপহরণ করার তেমন জোরালো কারণ বা প্রমাণ নেই। এই অন্তর্ধানের পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়েছিল পুলিশ।
তারা জানিয়েছিল, অর্ণবের আগে থেকেই মানসিক অবসাদ ছিল। সেই অবসাদের জেরেই সম্ভবত উধাও হয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কা ছিল, অবসাদের জেরে তিনি যদি আত্মহত্যা করেন! এই অবস্থায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে তা নির্বাচনের আবহে সম্পূর্ণ অন্য মোড় নেবে বলে আশঙ্কায় ছিলেন তদন্তকারীরা।
শেষমেশ মোবাইলের সূত্র ধরেই খোঁজ মেলে অর্ণবের। বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে তাঁকে উদ্ধার করে দুপুরে নিয়ে যাওয়া হয় ভবানী ভবনে। সেখানেই এখনও চলছে জেরা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শ্বশুরবাড়িতে মোটেও যাননি অর্ণব। মানসিক অবসাদেই ঘর ছেড়েছিলেন।
গত ১৮ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের ভিভিপ্যাটের দায়িত্বে থাকা এই অফিসার। অর্ণবের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে যত সময় গড়িয়েছে, ততই নানান কথা উঠে আসতে থাকে নানান মহল থেকে। কেউ বলছিলেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, কেউ আবার বলেছিলেন অর্ণব মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু অর্ণবের স্ত্রী অনিশা যশ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট এবং সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন না। নিখোঁজ হওয়ার দিন স্ত্রীর সঙ্গে ছ’বার ফোনে কথা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অর্ণবের অন্তর্ধান নিয়ে অনেকেই আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে প্রশ্নই তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল এই যে, ডিসিআরসি কেন্দ্র থেকে কী করে একজন ডব্লিউবিসিএস অফিসার নিখোঁজ হয়ে গেলেন! যদিও অক্ষত অবস্থায় অর্ণব উদ্ধার হওয়ার পরে এ সব জল্পনা অনেকটাই স্তিমিত। এবং তদন্ত যত এগোচ্ছে, তাঁর অবসাদ এবং তার জেরে উধাও হওয়ার তত্ত্বে জোর দিচ্ছে সিআইডি।
যদিও অর্ণবের খোঁজ মেলার পরে তাঁর স্ত্রী বা পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। খবর মিলেছে, কৃষ্ণনগর থেকে কলকাতা আসছেন তাঁরা।