দ্য ওয়াল ব্যুরো : আদালত নির্দেশ দিয়েছে, গতবছরের মতো এবছরও মণ্ডপে (Puja Pandal) ঢুকে প্রতিমা দর্শন করা যাবেনা। কিছুটা হতাশা নিয়েই আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
পাশাপাশি অনেক কমিটির আক্ষেপ, আদালত গতবছরের মতো এবছরও অনেক দেরিতে নির্দেশ দিল। যেকারণে বহু বিজ্ঞাপন হাতছাড়া হল। কিছুটা হতাশ আমজনতাও। তবে কোভিডের কথা মাথায় রেখে রায়কে স্বাগত জানাচ্ছেন তাঁরাও।
কুমোরটুলি পার্কের সহ–সম্পাদক দীপেন সাহা বললেন, ‘কোর্ট তো আমাদের শত্রু নয়। গতবছর প্রশাসন যেটা বলেছিল আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলাম। এবছরও ৫০ ফুট দূর থেকে দর্শক ঠাকুর দেখবেন।’ পুজোয় এবছরও তাঁদের মণ্ডপে ভিড় হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কুমোরটুলি সর্বজনীনের কনভেনার দেবাশিস ভট্টাচার্য বললেন, ‘মানুষ ভেতরে ঢুকে ঠাকুর দেখুন, এটাই কাম্য, কিন্তু কিছু করার নেই। আদালতের কথা অমান্য করতে পারব না। কিন্তু মানুষ ঢুকতে পারবেন না জেনে আমরা একটু হতাশ। গতবছরের কথা মাথায় রেখেই খোলামেলা করেছি। বাইরে থেকে প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জা দেখা যাবে।’ দেবাশিসবাবু আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে গতবছরও বিজ্ঞাপন আসেনি। এবছরও যেহেতু মানুষ কম আসবেন, তাই স্পনসররা আর এগোবেন না। এটা একটা সমস্যা।’
একই কথা জানিয়েছেন সমাজসেবী–র সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্র। তাঁর কথায়, ‘গতবছরের কথা মাথায় রেখেই খোলামেলা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপে ঢোকার কোনও প্রয়োজন হবে না দর্শনার্থীদের। দূর থেকেই সব দেখা যাবে। তবে আদালত গতবছরও শেষমূহূর্তে নির্দেশ দিয়েছিল। যেকারণে হাতছাড়া হয়েছিল বহু বিজ্ঞাপন। এবছরও তাই হবে। কিন্তু কিছু করার নেই, আদালত সবার ভালোর ওই জন্যই নির্দেশ দিয়েছেন।’
আদালতের রায় নিয়ে আক্ষেপ সাধারণ মানুষজনের মধ্যেও। দমদমের ঋতুপর্ণা দাস বললেন, ‘পর পর দুবছর মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন হবে না। খারাপ লাগছে। কিন্তু সবদিক থেকে দেখতে গেলে এটা তো আমাদের সবার ভালোর জন্যই। এবছর পুজোয় হয়ত বেরোনো হবে না। তাই পুজোর আগেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছি।’
সল্টলেক করুনাময়ীর শুভক্ষণ দত্ত রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোভিডে মানসিকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। দু’বছর ধরে পুজোয় আমরা কষ্ট করছি। হয়ত আরও একটা বছর আমাদের কষ্ট করতে হতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এটুকু ত্যাগ করা যেতেই পারে।’