
শেষ আপডেট: 28 December 2023 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের একাধিক দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিজেপির নির্দেশেই সিবিআই, ইডিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আগেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার এই প্রসঙ্গেই আরও বিস্ফোরক মমতা। তাঁর অভিযোগ, “সিবিআই, ইডিকে ঢুকিয়ে টাকা এবং সোনা লুঠ করছে। আর সেই টাকা বিজেপির পকেটে যাচ্ছে। কোনও কেসের বিচার হয়নি। তৃণমূল করলেই জেলে ভরো! সারা দেশে এজেন্সির গণতন্ত্র চলছে। আবার নেতারা বলছেন, গ্রেফতার বাড়ান। না হলে জেতা যাবে না।”
এই প্রসঙ্গেই টেনে এনেছেন জেলবন্দি বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, “বালুকে কেন অ্যারেস্ট করেছে? যাতে পার্টির কাজ না করতে পারে।”
সর্বভারতীয়স্তরে ইন্ডিয়া জোটে সিপিএম, কংগ্রেস থাকলেও এরাজ্যে তাঁরা বিজেপির ‘বি টিম’ হিসেবে কাজ করছে বলেও এদিন অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, “বালুদের জেলে ভরে সেই সুযোগে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি ভাঙড় থেকে বারাসত একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। আর সবাইকে চোর চোর বলছে।”
নাম না করে বাম-কংগ্রেসের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, “এত দম্ভ, এত অহঙ্কার কীসের জন্য?” খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই, “দেশে ইন্ডিয়া জোট থাকবে আর বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস একাই পারে বিজেপিকে শিক্ষা দিতে।”
এই প্রসঙ্গেই বিজেপির 'চক্রান্তে' পা না দেওয়ার আহ্বান শোনা গিয়েছে মমতার কণ্ঠে। তিনি বলেন, “বিজেপির টাকা নিয়ে ধর্মের রাজনীতি করতে যাবেন না। মনে রাখবেন, আমরাই কিন্তু ক্ষমতায় থাকব। আমরা নজরও রাখব। তবে বিজেপির মতো এজেন্সি লেলিয়ে আমরা রাজনীতি করি না।”
সম্প্রতি সংসদে ১৫০ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করেছে মোদী সরকার। তৃণমূল নেত্রীর সতকর্তা, “আগেও অনেক সরকার ছিল। কিন্তু এই ধরনের অত্যাচার, সন্ত্রাস আগে কখনও হয়নি। মনে রাখবেন বাংলা থেকে আমরা কম আসন পেলে ওদের অত্যাচার আরও বাড়বে।
নাগরিকত্ব প্রশ্নেও এদিন কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, "কীসের নাগরিকত্ব? নাগরিকত্ব না থাকলে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড হচ্ছে কী করে। আগে সিটিজেনশিপ কার্ড জেলা শাসকদের হাতে ছিল, কেড়ে নিয়েছে রাজনীতি করার জন্য। সমাজে সমাজে ভাগ করার জন্য। বলছে, একে দেব, ওকে দেব না। আমরা এই জিনিস বরদাস্ত করব না।"