দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবাসরীয় বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১০টি ট্রেনে কেরল, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক থেকে বাংলার শ্রমিকদের ফেরানো হবে। কিন্তু পরক্ষণেই রেল মন্ত্রক জানাল, পশ্চিমবঙ্গের তরফে ‘শ্রমিক ট্রেন’ চেয়ে কোনও আবেদনই আসেনি।
প্রশ্ন হল, সত্যিটা কী! দ্বিতীয় কথা হল, ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন প্রবল সংকটের মধ্যে দিন যাপন করছেন তখন এই বিভ্রান্তি তাঁদের আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, গোটা ব্যাপারটা দেখে মনে হচ্ছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব হচ্ছে। এই সংকটের মুহূর্তে যা হওয়া একেবারেই উচিত ছিল না।
শুক্রবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। চিঠিতে তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গের সাহায্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ওই শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
অমিত শাহর ওই চিঠির পর প্রথমে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও পরে দলের মুখপাত্র তথা রাজ্যসভায় দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন পাল্টা সমালোচনা করেন কেন্দ্রের। অভিষেক বলেন, যাঁরা এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁরাই কিনা এখন কাঁদুনি গাইছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, কাল রাতেই জানা গিয়েছিল যে আটটি ট্রেনে করে তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড় থেকে শ্রমিকদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার পর সেই বার্তা তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছিল, আজ ৯ মে প্রথম ট্রেনটি ছাড়বে বেঙ্গালুরু থেকে।
কিন্তু এদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র টুইট করে বলেন, বেঙ্গালুরু থেকে কোনও ট্রেন এখনও ছাড়েনি। অথচ শুধু কর্নাটকেই অন্তত ৪৫ হাজার বাঙালি শ্রমিক, কর্মী বাংলায় ফেরার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।
শনিবার বিকেলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অবশ্য জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর চেষ্টা করছে। ট্রেনের ব্যবস্থা তো করা হচ্ছেই। সেই সঙ্গে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, অসম, সিকিমে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য এক হাজার বাসের বন্দোবস্তও করা হয়েছে। তা ছাড়া বৃন্দাবন, মথুরা এবং বারাণসীতে আটকে থাকা তীর্থযাত্রীদে ফেরানোর বন্দোবস্তও রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই করেছে। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রবিবার একটি ট্রেন তেলেঙ্গানা থেকে মালদহে পৌঁছবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এহেন বিভ্রান্তি অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে খুব বেশি হয়নি। একুশে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। সেই কারণে কি এখন সবেতেই রাজনীতি ঢুকে যাচ্ছে। হয়তো রাজ্য দেখাতে চাইছে কেন্দ্র কোনও সাহায্যই করছে না। আবার কেন্দ্র তথা বিজেপি দেখাতে চাইছে রাজ্য সব তথ্য গোপন করছে, চরম অব্যবস্থা চলছে বাংলায়। কিন্তু আখেরে এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রথমে বাংলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন। এখন বিভ্রান্ত হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার পরিজনরা। এহেন পর্যবেক্ষকদের এও মত, সংকটের সময় এই বিভ্রান্তির জন্য মানুষ অবধারিত ভাবেই আরও বিপন্ন বোধ করতে পারে। যা কোনও ভাবেই কাঙ্খিত নয়।