দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, দেশে অভিন্ন পরিচয়পত্র শুরু করার তাঁদের সরকারের লক্ষ্য। ভোটর কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড – এগুলির কোনওটাই নাগরিক পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রাহ্য নয়। একমাত্র নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) নাম থাকলে তবেই প্রমাণিত হবে কেউ ভারতের নাগরিক কিনা।
বুধবার এই সূত্র ধরেই আক্রমণের ধার বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহকে কটাক্ষ করে বললেন, “শ্রদ্ধাভাজনেষু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার কাজ আগুন নেভানো। দেশে আগুন জ্বালানো আপনার কাজ নয়”। সেইসঙ্গে অমিত শাহর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আধার কার্ড যদি নাগরিক পরিচয়পত্র না হয় তা হলে কেন তার পিছনে ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করলেন? কেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল কানেকশন, পাসপোর্টের জন্য আধার বাধ্যতামূলক করলেন? প্যান কার্ড দিয়ে মানুষ আয়কর জমা দিতে পারেন, তা হলে কেন সেটা নাগরিক পরিচয়পত্র নয়?
অমিত শাহ বোঝাতে চেয়েছিলেন, দেশের নাগরিক কারা তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকা প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবি। এজন্য একটি অভিন্ন ব্যবস্থা থাকাই কাম্য।
কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, অমিত শাহর এই কথায় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অমূলক নয়। কারণ, দেশের কোটি কোটি মানুষ মনে করেন ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাঙ্কের পাসবই ইত্যাদির মতো পরিচয়পত্রই নাগরিক পরিচয়পত্র। তাঁরা যদি জানতে পারেন, এগুলো পর্যাপ্ত নয়, নতুন খাতায় নাম তুলতে হবে তা হলে বিভ্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ দেখেছেন, গোড়ায় এধরণের প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক জটিলতা থাকে।
কৌশলে মানুষের এই বিভ্রান্তিকেই রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করতে চেয়েছেন পোড় খাওয়া নেত্রী মমতা। তিনি মানুষের নাড়ির গতি বোঝেন। তিনি এও বুঝতে পারছেন, মানুষ অত জটিলতা বোঝে না, বুঝতে চায়ও না। আর সেই কারণেই এদিন অমিত শাহর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন নেত্রী। মানুষকে বোঝাতে চেয়েছেন, এনআরসির বাস্তবায়ন মানে শুধু বিভাজনের রাজনীতিই নয়, আর একপ্রস্থ বিভ্রান্তি ও জটিলতা।
বস্তুত রাজনীতিতে ধারণাটাই সব। অনেক ভাল কাজ করেও মানুষকে বোঝাতে না পারলে তার ফল পাওয়া যায় না। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ দেখে তা অনুধাবন করতে পারছেন বিজেপি নেতারাও। দলের এক মুখপাত্র বলেন, এই কারণেই দলের মধ্যেও নেতাদের প্রশিক্ষণ চলছে। তা ছাড়া দল ও সঙ্ঘ পরিবারের নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝানোরও সঙ্কল্প নিয়েছেন।
মমতা এদিন দাবি করেন, ভোটার কার্ড নিয়ে বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, ভোটার কার্ড চালু করা নিয়ে তৃণমূল যখন আন্দোলন করেছিল তখন প্রেক্ষাপট ছিল অন্য। ভোটার লিস্টে সিপিএমের একেক জন নেতা কর্মীর চল্লিশবার নাম থাকত। তাই জাল ভোট ঠেকাতে সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়া উপায় ছিল না। কিন্তু তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সাংবিধানিক পদে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি যদি মিথ্যা প্রচার চালান তা হলে তা দুর্ভাগ্যজনক।