
শেষ আপডেট: 23 November 2022 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লড়াই মাইলফলক হয়ে রয়েছে। বড় বিষয় হল, মমতার ওই আন্দোলনের কারণেই ১৮৯৪ সালের পাশ হওয়া জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনে সংশোধন করা হয়। বুধবার নেতাজি ইনডোরে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ফের পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, পুনর্বাসন (rehabilitation) না দিয়ে কোনও গরিবকে উচ্ছেদ (evicted) করা যাবে না।
তাঁর সাফ কথা, রেল, জাতীয় সড়ক বা বিমানবন্দর নির্মাণের জন্যও গায়ের জোরে বাংলায় জমি দখলের চেষ্টা হলে স্থানীয়রা যেন আন্দোলন গড়ে তোলেন। রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে থাকবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথা রাজনৈতিক ভাবে অর্থবহ। দিদি বোঝাতে চাইলেন, সরকার গরিব ও প্রান্তিক মানুষের পাশে রয়েছে। তাঁদের স্বার্থে কোনওভাবে আঘাত হানতে দেবেন না। দুই, রাজ্য সরকার যখন দেউচা পাচামির মতো কয়লা প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী বোঝালেন স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকার স্থানীয়দের আস্থা নিয়ে, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তবেই অধিগ্রহণের পথে যাবে।
এদিনের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে পাট্টা বিলি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার এখনও পর্যন্ত আড়াই লক্ষ মানুষকে পাট্টা দিয়েছে। মেদিনীপুরের খাসমহলে দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ বসবাস করছিলেন। তাঁদের জমির অধিকার ছিল না। খড়্গপুর গ্রামীণ ও শহর মিলিয়ে সেই এলাকায় ১ লক্ষ লোককে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া আগে পাহাড়ে পাট্টা দেওয়া হত না। এখন সেখানেও পাট্টা দিচ্ছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “আজও বিধানসভায় শুনলাম যে ফ্লাইওভার বা জাতীয় সড়কের জন্য জোর করে জমি নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পাণ্ডবেশ্বরে এরকম ঘটনা ঘটেছে। আমি তাই আবারও বলছি, আলোচনা না করে, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ না দিয়ে গরিবের জমি নেওয়া যাবে না। বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করতে দেব না”।
এদিনের অনুষ্ঠানে নাগরিকত্বের বিষয়টিও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “৭১ সাল পর্যন্ত যাঁরা ভারতে এসেছেন তাঁরা তো চুক্তিমতোই এসেছেন। তাঁরা সবাই ভারতের নাগরিক। কখনও কখনও ভাঁওতা দেওয়ার চেষ্টা হয় যে তাঁরা নাগরিক নন। আরে আমার ভোটে তুমি প্রধানমন্ত্রী, আর আমাকেই বলছ আমি নাগরিক নই। আমাকে এ কথা বলে তোমরা কি অসম্মান করছ না?”
অনেকের মতে, পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটের আগে কৌশলেই এ কথা তুলে ধরছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বোঝাতে চাইছেন, কেন্দ্রের সরকারের নীতিতে অনেককে বিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলায় তা হতে দেওয়া হবে না।
রাজ্যপালের শপথে গরহাজির থাকলেন শুভেন্দু, বসার জায়গা নিয়ে কেন ক্ষোভ বিরোধী দলনেতার