আইএসআইয়ের হয়ে ভারতে চরবৃত্তির অভিযোগ, জঙ্গিদের টাকা পাঠাত রজকভাই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করত রজকভাই কুম্ভর। ভারতে আইএসআই এজেন্টদের টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোও ছিল তার কাজ। বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গুজরাতের কচ্ছ এলাকা থেকে রজকভ
শেষ আপডেট: 30 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করত রজকভাই কুম্ভর। ভারতে আইএসআই এজেন্টদের টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোও ছিল তার কাজ। বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গুজরাতের কচ্ছ এলাকা থেকে রজকভাইকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
রজকভাইয়ের নাম সামনে আসে গত জানুয়ারিতেই। লখনউ থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে মহম্মদ রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করেই রজকভাইয়ের নাম উঠে আসে। মুঘলসরাইয়ের চান্দোলি জেলায় গা ঢাকা দিয়েছিল রশিদ। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, এই রশিদও আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করত। তার কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি পাওয়া গেছে যা সে পাকিস্তানে চালান করার মতলব করেছিল। এই সব তথ্যই ভারতীয় সেনা ও বিভিন্ন সামরিক কৌশল সংক্রান্ত।
এনআইএ-র অফিসাররা জানিয়েছেন, আইআসআইয়ের এমন অনেক হ্যান্ডলার রয়েছে যারা ভারতে কাজ করে। তাদের একটা বড় চক্র ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। পুলিশ, সেনা ও অন্যান্য গোপন তথ্য কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে তারা পাকিস্তানে চালান করার চেষ্টা করছে। এই হ্যান্ডলারদের টাকা ও অন্যান্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্যও কিছু লোককে নিয়োগ করে আইএসআই। মহম্মদ রশিদ ও রজকভাই হল তেমনই কয়েকজন। যাদের কাজ আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি করা, তাদের হ্যান্ডলারদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া আবার আইএসআইয়ের পাঠানো টাকা প্রয়োজন মতো বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, রজকভাই এর আগে দু’বার পাকিস্তানে গিয়েছে। তার স্ত্রী পাকিস্তানের নাগরিক। রজকভাইয়ের বেশ কিছু আত্মীয় ছড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তানে। গোয়েন্দা অফিসারদের দাবি, স্ত্রীয়ের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকাপয়সা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। পেটিএমে রিজওয়ান নামে আরও এক আইএসআই এজেন্টকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল রজকভাই। এই টাকা হাত ধরে পৌঁছেছিল রশিদের কাছে।
গোয়েন্দাদের অনুমান, আইএসআইয়ের হয়ে ভারতে টাকাপয়সা লেনদেনের ব্যাপারটা দেখত রজকভাই। দেশে পাক গুপ্তচর সংস্থার যত এজেন্ট ছড়িয়ে রয়েছে তাদের কাছে সময়মতো টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত সে। তবে আইএসআই সরাসরি রজকভাইয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাত না। বরং পাকিস্তানে তার আত্মীয়দের মারফৎ বা অন্যান্য ব্যবসায়ী মারফৎ টাকা পৌঁছত তার কাছে। সেই টাকা রজকভাই বাকি এজেন্টদের ট্রান্সফার করে দিত। গোয়েন্দাদের অনুমান, রজকভাইয়ের স্ত্রীও আইএসআইয়ের হয়েই কাজ করেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনিও।