
শেষ আপডেট: 11 June 2023 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বেজে গেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা। শুক্রবার থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু করেছেন প্রার্থীরা। আর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর মিলেছে। এবার সেই অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করতে চলেছে কমিশন। এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যে চিঠি পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জানাল, ভোটের সময়ে নজরদারি চালাতে রাজ্যে আসবে তারা।
রাজ্যজুড়ে মনোনয়ন সংক্রান্ত অশান্তির আবহে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে এবং মনোনয়নকে ঘিরে যাতে রাজ্যে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হব। রাজীব সিনহাও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সবরকম পদক্ষেপ করছে কমিশন। পাশাপাশি, জানিয়েছে, ভোটের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে তারা।
এসবের মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে মানবাধিকার জানিয়েছে, তারা সুয়োমোতোভাবে নজরদারি চালাবে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে। অর্থাৎ কোথাও কোনও অশান্তি হলে তারা নিজেদের উদ্যোগে রিপোর্ট তৈরি করবে এবং পরবর্তীকালে তা দেখিয়ে রাজ্যের কাছে জবাবদিহিও চাইতে পারে তারা।
মানবাধিকার কমিশনের এই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে অশান্তি হলে বা কোথাও কোনও মহিলা নির্যাতিতা হলে মানবাধিকার কমিশনকে এত সক্রিয় হতে দেখা যায় না। অথচ এ রাজ্যে যখন সরকার ও কমিশন মিলে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর চেষ্টা করছে, তখন সম্পূর্ণ আগ বাড়িয়ে তারা আসছে রাজ্যে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পরেই তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটে গিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনিই এসব কারসাজি করে এসেছেন বলে দাবি তৃণমূলের। তৃণমূলের আরও দাবি, এসব আসলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এতে লাভ হবে না, মানুষ তৃণমূলকেই জেতাবে বলে বিশ্বাস তাদের।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিজেপির দাবি, যেভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পঞ্চায়েত ভোটের ঘোষণা করল, তাতে একথা স্পষ্ট যে তারা রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করছে। এর পরে যেভাবে মনোনয়ন ঘিরে অশান্তি হচ্ছে রাজ্যজুড়ে, তাতে মানবাধিকার কমিশন চুপ করে বসে থাকতে পারে না। তারা স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপ করেছে রাজ্যে নজরদারি করতে আসার। বিজেপির তরফে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং জানানো হয়েছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন যাতে পূর্ণ সহযোগিতা করে মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে।
সোমবার থেকেই মনোনয়ন কেন্দ্রগুলিতে ১৪৪ ধারা জারি এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে, সিদ্ধান্ত কমিশনের