দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশে গতবারই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রবীন্দ্র সরোবরের ছটপুজো। তা নিয়ে কম হট্টগোল হয়নি! তারপর পরিবেশ আদালতের কাছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি তথা কেএমডিএ আবেদন করেছিল, শর্ত সাপেক্ষে ছটপুজো করতে দেওয়া হোক লেকে। বৃহস্পতিবার কেএমডিএ-র সেই আর্জি খারিজ করে দিল গ্রিন ট্রাইবুনাল। পরিবেশ আদালত জানিয়ে দিল, কোনও শর্তেই লেকে ছটপুজোয় অনুমতি দেওয়া যাবে না।
এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের প্রধান তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশের পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, "ছটপুজোয় বহু মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ রয়েছে। তাই আমরা গ্রিন ট্রাইবুনালের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম যাতে শর্ত সাপেক্ষে ছটপুজোয় অনুমতি দেওয়া হয়। এবার সুপ্রিম কোর্টে যাব।"
গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশেই বিশেষজ্ঞ দল ২০১৮ সালের ছটপুজোর পরদিন জলের নমুনা সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায় ব্যাপক দূষণ। বাতাসেও কার্বনের মাত্রা বেড়ে যায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরোবরে ছটপুজো নিষিদ্ধ করে পরিবেশ আদালত।
গ্রিন ট্রাইবুনালের রায়কে মান্যতা দিতেই গতবছর ছটপুজোর সময় সরোবরের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। বসানো হয় পুলিশ পিকেট। কিন্তু কয়েকশ মানুষ এসে দাবি জানায় গেট খুলে দিতে হবে। তারপর চলে বেপরোয়া ভাঙচুর। ওই ঘটনার পরেই গ্রিন ট্রাইবুনালে যায় কেএমডিএ।
এদিনের গ্রিন ট্রাইবুনালের রায়ের পর খুশি পরিবেশবিদরা। তাঁদের কথায়, সারা বিশ্বে পরিবেশ সংকটে। সর্বত্র আলোচনা চলছে কী ভাবে সবুজ রক্ষা করা যায়। আমাদের দুর্ভাগ্য এখানে ধর্মীয় ভাবাবেগের অজুহাতে সরকার এই ধরনের ভূমিকা নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গতবার ছটপুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিজেপি। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, সরকারের অপদার্থতার জন্যই পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেকের মতে, হিন্দিভাষীদের কাছে যাতে ভুল বার্তা না যায় সে কারণেই কেএমডি এই পদক্ষেপ করে। কিন্তু গ্রিন ট্রাইবুনালে ধাক্কা খেতে হল রাজ্যকে।