দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া দোষীদের কী শাস্তি হবে? ফাঁসির সাজাই কি বহাল রাখবে দেশের শীর্ষ আদালত? সকাল থেকেই চড়ছিল প্রতীক্ষার পারদ। বেলা ১টায় এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ২০১৭ সালের রায়ে কোনও ভুল ছিল না। নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার কিছু নেই। মৃত্য়ুদণ্ডের সাজাই বহাল রাখা হবে। দোষী অক্ষয় ঠাকুরের রিভিউ পিটিশনও খারিজ করে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।
গতকাল, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে অক্ষয় ঠাকুরের ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি আর বানুমাথি ও বিচারপতি অশোক ভূষণের বেঞ্চ। দিল্লির দূষণ, পুরাণ-কলিযুগ ইত্যাদি যুক্তি সাজিয়ে সাজা মকুবের যে আর্জি খাড়া করেছিল অক্ষয় ঠাকুর, সেটা শুনতেই চাননি প্রধান বিচারপতি বোবদে। বরং নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সেই মামলা থেকে। আজ বুধবার, বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চে নির্ভয়া মামলার শুনানি শুরু হয়।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা বলেন, "দোষীরা কোনওরকম ভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। এমন নৃশংস মানুষ সৃষ্টি করে ভগবানও লজ্জিত। এমন কিছু অপরাধ ঘটে যা মানবতার লজ্জা, নিষ্ঠুরতার চরম সীমায় পৌঁছয়। এই মামলাও ঠিক তেমনই।"
এদিন শুনানি শুরু হলেই, অক্ষয়ের ফাঁসির তীব্র বিরোধিতা করেন এপি সিংহ। তাঁর দাবি, চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে তাঁর মক্কেলকে। তিনি আরও বলেন, "মৃত্য়ুদণ্ড দিলেই অপরাধীর অপরাধ শেষ হয় না। ফাঁসির সাজা দেশ থেকে তুলে দেওয়াই উচিত।"
গত ১৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন অক্ষয় ঠাকুরের আইনজীবী এপি সিং। গতকাল আদালত থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেছিলেন, ঘটনার দিন তাঁর মক্কেল বিহারের ঔরঙ্গাবাদে নিজের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর কাছে বাসের টিকিট ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। চাইলে সেগুলো আদালতে জমা করা যাবে। তাঁর আরও দাবি, ইচ্ছাকৃত ফাঁসানো হচ্ছে অক্ষয় ঠাকুরকে। এই মামলায় আর এক দোষী রাম সিং জেলের ভিতরে আত্মহত্যা করেনি, বরং তাকে খুন করা হতে পারে বলেও দাবি তুলেছেন তিনি।
এদিন শুনানি শুরু হলে এপি সিং ফের বলেন, সেদিনের ভয়াবহ ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তাদের নাম স্পষ্ট করে বলেননি নির্যাতিতা। অক্ষয় ঠাকুরের নামও সামনে আনা হয়নি। ভুয়ো রিপোর্ট বানিয়ে তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

দোষীদের মধ্যে বিনয় কুমার দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু দু’পক্ষই তা খারিজ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠায়। সেখানেও সাজা মকুবের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টে ফাঁসির সাজা বহাল রাখার পর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে তিন দোষী বিনয়, মুকেশ ও পবন। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। বাঁচার শেষ চেষ্টা করে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে অক্ষয় ঠাকুর।
সাজা মকুবের আর্জি জানাতে গিয়ে অক্ষয় ঠাকুর টেনে আনে হিন্দু পুরাণ, মহাত্মা গান্ধী এমনকি দিল্লির দূষণকেও। ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশনে তার দাবি, “বেদ, পুরাণ, উপনিষদ অনুযায়ী যুগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আয়ুও কমে। আগে মানুষ হাজার বছরের বেশি বাঁচত, এখন কলিযুগ। এই যুগে মানুষের আয়ু কমে ৫০-৬০ বছরে এসে ঠেকেছে। খুব কম মানুষই ৮০-৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচেন। আয়ুই যখন কম, তখন আর মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়ে কী হবে!”
যুক্তির শেষ এখানেই হয়নি। মহাত্মা গান্ধীর উদ্ধৃতি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় দোষী অক্ষয় ঠাকুর। রিভিউ পিটিশনে উঠে আসে দিল্লির দূষণের কথাও। অক্ষয় ঠাকুরের দাবি, “বায়ুদূষণ রাজধানী দিল্লিকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করেছে। শুধু তাই নয় দিল্লির জলও বিষাক্ত। সে কথা সরকারও স্বীকারও করেছে। সবাই জানে দিল্লির বাতাস কতটা দূষিত, জল কতটা খারাপ। এই দূষণ আমাদের আয়ু দিন দিন আরও কমিয়ে দিচ্ছে। তাহলে আর ফাঁসির সাজা কেন!” সাজা মকুবের এমন যুক্তি শুনে ফের ক্ষোভের আগুন জ্বলে দেশে। দোষীদের দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করার জন্য আবেদন করে নির্ভয়ার পরিবার।