দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে রবিবার ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশ্বজুড়ে এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ছ’হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে ফ্রান্সেও। সতর্ক জার্মানিও।
ইতালিতে রবিবার ৩৬৮ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৮০৯ হয়েছে। চিনের বাইরে এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে যতজনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে অর্ধেকই ইতালিতে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে উত্তর ইতালির নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন যে হাসপাতালে আর কোনও শয্যা খালি নেই এবং কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রও আর নেই। এই অবস্থায় ইস্টার উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী উৎসব স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাটিকান সিটি।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে যে রবিবার তীর্থে যাওয়ার মতো করে খালি পায়ে ভ্যাটিকান ছেড়ে বেরিয়ে রোমের একটি ক্যাথিড্রালে প্রার্থনা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি প্রার্থনা করেছেন যাতে করোনাভাইরাসের মতো মহামারিতে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ভ্যাটিকান থেকে একথা জানানো হয়েছে।
ইতালির পরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এখন ফ্রান্স ও স্পেনে। এই দুই দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাফে, দোকান ও রেস্তোরাঁ। অত্যাবশ্যকীয় ছাড়া সমস্ত রকম বাণিজ্যিক কাজকর্ম বন্ধ রাখার দিয়েছে ফ্রান্স। আরও একধাপ এগিয়ে স্পেন ঘোষণা করেছে যে কর্মস্থলে যাওয়া, চিকিৎসা করাতে যাওয়া ও খাবার কিনতে যাওয়া ছাড়া আর কোনও প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরনো চলবে না।
জার্মানিতেও করোনা আতঙ্ক ঢুকেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে তারা ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, লুক্সেমবুর্গ ও ডেনমার্কের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে।
করোনার জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের সেনজেন বলে পরিচিত যে সব দেশের মধ্যে অবাধ যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে সেইসব দেশের মানুষের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা এই তালিকায় যোগ করেছে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডকে।
মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ির ফলে সেদেশের বিমানবন্দরগুলির চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল অবস্থা। সেদেশে প্রবেশের নতুন নিয়মের ফলে বিমানবন্দরগুলিতে এখন ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লম্বা লাইন।
করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও যদিও আশা করা হচ্ছে যে এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়বে না।
এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,৬৩,৯৩০ এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৪২০ জনের।