দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্বেগ। উৎকণ্ঠা। আবার কি গ্রাম বংলায় বেজে উঠবে ভোটের বাদ্যি? পঞ্চায়েত ভোট বৈধ নাকি অবৈধ? ৩৪ শতাংশ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনের ভবিষ্যৎই বা কী?
ঘণ্টাখানেকের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে সব। পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে তিন জন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
পঞ্চায়েতের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ আদালতে ওই মামলাটি দায়ের করেছিল বিজেপি। তাদের অভিযোগ ছিল, শাসক দলের সন্ত্রাসের কারণে পঞ্চায়েতে ৩৪ শতাংশ আসনে কোনও প্রার্থীই দিতে পারেনি বিরোধীরা। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ এই ত্রিস্তরে এ ভাবে হাজার হাজার আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিয়েছে তৃণমূল।
ওই আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছিল, মামলার রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনগুলির ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশন করা যাবে না।
অর্থাৎ আজ সুপ্রিম কোর্টের জানানোর কথা ওই ৩৪ শতাংশ আসনে ভোট বৈধ না অবৈধ। মামলার শুনানির শেষ দিনে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রও সে কথা বলেছিলেন। সে দিন আদালতে তিনি বলেছিলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের সামনে প্রশ্ন ছিল, বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট কি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে? সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়ার মৌলিক শর্ত কি পালন করা হয়েছে নির্বাচনে? এবং তা না হলে পঞ্চায়েত ভোট প্রক্রিয়া আদৌ বৈধ কিনা?”
সুপ্রিম কোর্টের রায় রাজ্য সরকার তথা তৃণমূলের পক্ষে নেতিবাচক হলে তারা কী পদক্ষেপ করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নবান্ন সূত্রের মতে, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে সরকার ও শাসক দল। নবান্নের এক আমলার মতে, সে দিক থেকে এ দিন দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বৈঠকে পঞ্চায়েত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পঞ্চায়েত স্তরে আটকে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণ কী ভাবে দ্রুততার সঙ্গে করা যাবে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তার পর পঞ্চায়েতের কাজে গতি আনতে পাঁচ জন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই পাঁচ জন মন্ত্রী হলেন, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।