
শেষ আপডেট: 4 October 2020 15:33
অনেকের মতে, বাংলার প্রেক্ষাপটে গোর্খাল্যান্ড শব্দটাই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর শব্দে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার কী করে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু লিখল। গোর্খাল্যান্ডের তো অস্তিত্বই ' নেই। তা ছাড়া কেন্দ্র বড় জোর লিখতে পারে গোর্খাল্যান্ডের দাবি।
গত ২ অক্টোবর এই চিঠি ইস্যু করেছে নর্থ ব্লক। আজ, রবিবারই বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে নবান্নের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রবিবার ছুটির কারণে হতে পারে এদিন রাজ্য সচিবালয় কোনও বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
উত্তরবঙ্গের একটি অংশকে গোর্খাল্যান্ড নামে আলাদা রাজ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আন্দোলন বা দাবি নতুন নয়। আটের দশকে সুভাষ ঘিসিংয়ের লালকুঠি থেকে তৈরি হওয়া আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে ছুটতে হয়েছিল পাহাড়ে।
বাম জমানার শেষ দিকে একই আন্দোলনে উত্তাল হয় পাহাড়। সেই আন্দোলনের নেতা বিমল গুরুঙ্গ, রোশন গিরিদের নিয়ে বর্তমান শাসকদলের নাচানাচিও কম ছিল না। পরে যদিও বিমল, রোশনরা তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। ঘনিষ্ঠ হন বিজেপির। বিমলের পরিবর্তে জিটিএ চেয়ারম্যান পদে বসানো হয় বিনয় তামাংকে। অনেকে বলেন, বিমল গুরুঙ্গদের সঙ্গে লোকবল থাকলেও বিনয় তামাংদের সঙ্গে তা নেই। ৭ তারিখের বৈঠকে জিটিএ চেয়ারম্যানকেও যোগ দেওয়ার কোথা বলেছে কেন্দ্র।
প্রসঙ্গত, গত দুটি লোকসভা ভোটে দার্জিলিং সিট জিতেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির খোলামেলাই গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করে। সম্প্রতি সংসদের বাদল অধিবেশনেও এ নিয়ে সোচ্চার হন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট।
শাসকদল এখনও এ নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে প্রতিক্রিয়া না দিলেও ঘরোয়া আলোচনায় অনেক নেতা বলছেন, বিজেপি জানেও না কী আগুন নিয়ে তারা খেলছে। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে পাহাড়ে অশান্তি ছড়াতে।
গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্রের এই তৎপরতার বিরুদ্ধে ত্রিপুরাতেও আন্দোলন শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুরে 'বাঙালি ফ্রন্ট' নামের একটি সংগঠন আগরতলার প্রাণ কেন্দ্রে.মিছিল করে গোর্খাল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
যদিও বাংলার বিজেপি নেতারা বলছেন, এর মধ্যে বিতর্কের কিছু নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারই জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) তৈরি করেছিলেন। সেখানেও গোর্খাল্যান্ড শব্দে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রথম এই শব্দ বলছে এমনটা নয়।