দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত পোহালেই বিধানসভা অধিবেশন শুরু। শুক্রবার রাজ্যপালের ভাষণ দিয়েই শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। তার আগে দেবাঞ্জন কাণ্ডে নাম জড়িয়ে রাজ্যপালকে আক্রমণের ধারা জারি রাখল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সাংবাদিকদের হাতে কয়েকটি ছবি তুলে দেন। তাতে দেখা যাচ্ছে কসবার ভ্যাকসিন কাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত ভুয়ো আইএএস দেবাঞ্জন দেবের পেছনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। যার পরনে একটি কালো স্যুট। দেখে অনুমান করা যাচ্ছে তিনি একজন দেহরক্ষী। ওই একই ব্যক্তিকে রাজভবনেও দেখা গিয়েছে। এই দুটি ছবি তুলে ধরে সুখেন্দু প্রশ্ন তোলেন তাহলে কি দেবাঞ্জনের রাজভবনেও যাতায়াত ছিল?
প্রসঙ্গত, বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে বিরোধীদের নিশানা করে বলেছিলেন, জাল আইএএস দেবাঞ্জনের সঙ্গে কিছু ছবি দেখিয়ে তৃণমূলকে দায়ী করা হচ্ছে। আরও অনেকের সঙ্গে দেবাঞ্জনের ছবি আছে, ক্রমশ তা প্রকাশ পাবে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের ২৪ ঘন্টার মাথায় দেবাঞ্জনের সঙ্গে রাজভবনের যোগাযোগের অভিযোগ সামনে এনে রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়ের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলল রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত রাজভবনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তাৎপর্যপূর্ণ হল ধনকড় মুখ খোলার আগেই তাঁর হয়ে ব্যাটিং শুরু করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ছবি কবে কোথাকার, ছবির সত্যতা কি, তা পরিষ্কার করেনি তৃণমূল। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে আন্দাজে ঢিল মারা হচ্ছে। রাজ্যপালকে বিনা কারণে আক্রমণ করা হচ্ছে।
রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় এদিন আরও বলেন, ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তির মাধ্যমে নাকি রাজভবনে একটা বিশেষ ব্যক্তির কাছে খাম ও গিফট যেত। তাই এর তদন্ত হওয়ার দরকার আছে। তদন্তকারী টিমকে আমরা এই তথ্য দেব, যাতে সঠিক তদন্ত হয়। যারা এর সঙ্গে যুক্ত আছে সেই সমস্ত মাথাদের যাতে বের করা যায়।
এর পরেই রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে রাজ্যসভার এই সাংসদ বলেন, এই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে হাওয়ালা থেকে জমি কেলেঙ্কারি, সব অভিযোগ রয়েছে। এরকম কোরাপ্টেড একজনকে রাজ্যপাল করার আগে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রের। আমরা চাইব এমন রাজ্যপালকে তুলে নেওয়া হোক আমাদের রাজ্য থেকে। তা না হলে আমরা রাষ্ট্রপতিকেও জানাবো।