দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ধারিত সময়ের পরে মদ বিক্রি না করায় পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে এক ধাবার মালিককে ধরে মারধর করার অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পরে তারা ফিরে এসে ওই ধাবার কাছে বোমাবাজি করে বলেও অভিযোগ।
পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের মাহাতা ও দাউরাডাঙা গ্রামের মাঝামাঝি একটি ধাবায় একটি চারচাকা গাড়িতে চড়ে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ মদ খেতে যায় তিন বন্ধু। তার ঘণ্টা খানেক পরে আবার তারা মদ কিনতে যায় ওই ধাবাতেই। কিন্তু মদের দোকান তখন নিয়ম মেনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই মদ বিক্রি করতে চাননি ধাবার মালিক। অভিযোগ, তার জেরে বেধড়ক মারধর করা হয় ধাবার মালিককে। কিছুক্ষণ পরে ফের সেখানে এসে হাজির হয় ওই তিন যুবক। ধাবার সামনে তারা বোমাবাজিও করে।
হামলাকারীদের দাদাগিরি ও বোমাবাজির পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে ধাবার সিসিটিভি ক্যামেরায়। মঙ্গলবার দুপুরে মাহাতা গ্রামের বাসিন্দা তথা ওই ধাবার মালিক বৃন্দাবন ঘোষ এ নিয়ে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ অবশ্য এখনও ধরতে পারেনি অভিযুক্তদের। তবে তাদের গাড়িটি আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী বৃন্দাবন ঘোষ জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ একটি সাদা রঙের চারচাকা গাড়িতে চড়ে আসে ওই তিন জন। তাদের মধ্যে ছিল ভাতারের কালুত্তক গ্রামের বাসিন্দা জাকির শা এবং হাসমত আলি শেখ। ওই দুজনের সঙ্গে গুসকরার বাসিন্দা বিভাস নামে এক যুবকও ছিল। বৃন্দাবন বলেন, “সন্ধ্যায় এসে ওরা বিয়ার কেনে। কিন্তু ধাবায় এক সঙ্গে বসে খাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই ওদের বসতে দিইনি। বাইরে বিয়ার খেয়ে এসে বেশ কিছুক্ষণ পর আবার মদ চায়। কিন্তু দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই দিইনি। তখন আমাকে শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করে চলে যায়। যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে যায়।"
বৃন্দাবন বলেন, “রাত নটার পর গাড়ি চড়ে ফের ওই তিন জন আসে। গাড়ি থেকে নেমেই জাকির পরপর দুটো বোমা ছোড়ে ধাবা লক্ষ্য করে। কোনওক্রমে বেঁচে গেছি।"
বোমাবাজির আওয়াজ পেয়ে আশপাশ থেকে বেশ কয়েক জন লোক বেরিয়ে আসে। তখন গাড়িতে চাবি লাগিয়ে হামলাকারীরা ছুটে পালিয়ে যায়। পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ গাড়িটি আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন বৃন্দাবনবাবু। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত চলছে।