দ্য ওয়াল ব্যুরো: শান্তিকুঞ্জ বনাম-শান্তিনিকেতন। ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধকে অনেকেই এ ভাবে ব্যাখ্যা করতেন। ভোট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই সংঘাত বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা পারস্পরিক তোপ দাগাদাগি যেন আরও চরম আকার নিচ্ছে।
গতকাল তৃণমূল ভবনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক করেন অভিষেক। সেখানে তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতার উদ্দেশে বলেন, "বিরোধী দলনেতার উদ্দেশে বলব, গঠনমূলক আলোচনা করুন। কারও চাটুকারিতা করে কুত্সা করবেন না।” ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ আরও বলেন, "শুনলাম দুদিন আগে তিনি বলেছেন বাংলার যে শ্রমিকরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজে যান তাঁদের সেখানে বিপদে পড়তে হতে পারে। তল্পিবাহকতা করতে করতে এত নীচে নেমেছে। আমি বলব বিরোধী দলনেতা বিরোধী দলনেতার মতো কাজ করুন।”
এদিন দিল্লিতে শুভেন্দুকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "যিনি বলেছেন তিনি আমার লেভেলের নেতা নন। আমার লেভেলের কেউ কিছু বললে জবাব দেব। তাছাড়া আমি তৃণমূলকে কোনও রাজনৈতিক দল মনে করি না। ওটা একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।"
গতকাল অভিষেক জানিয়েছিলেন, সারা ভারতবর্ষে তৃণমূলকে বিস্তার করা তাঁর লক্ষ্য। এবং এও বলেছিলেন যে রাজ্যের তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে চার-পাঁচটা বিধায়ক জেতার লক্ষ্যে নয়, ক্ষমতা দখলের জন্যই ঝাঁপাবেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর কথায়, সর্বভারতীয় তৃণমূল অনেকটা গরুর গাড়ির হেডলাইটের মতো। ও নিয়ে কথা না বলাই ভাল।
শুভেন্দু আরও বলেন, সরকারি দলে থেকে, দুহাজার পুলিশ নিয়ে ঘুরে অনেক কথা বলা যায়। আমি স্রোতের বিরুদ্ধে, সরকারি দলের বাইরে থেকে পঁচানব্বই সালে কাউন্সিলর হয়েছিলাম। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট জমানায় বিধায়ক হয়েছি। ২০০৯ সালে ছোট মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে সাংসদ হয়েছিলাম। এবার ২১৩ সিট জেতা মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছি।
দিল্লিতে শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে দেখা করে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে পাল্টা অভিষেক বলেন, "ওঁর লেভেলটা কী, আমি জানতে চাইছি। তিনমাস আগে যখন প্রতিটা সভায় আমার বাপবাপান্ত করে কথা বলতেন তখন ওঁর লেভেলটা কি উপরে উঠে গিয়েছিল? নাকি এখন লেভেলটা নেমে গিয়েছে?" এরপর তিনি আরও বলেন, ‘‘এই যে এত বড় বড় কথা বলছেন! ওঁর বাড়ির লোক তো ত্রিপল চুরিতে অভিযুক্ত! নিশ্চিতভাবেই উনি ঠিকই বলেছেন, ওঁর লেভেল আর আমার লেভেল এক নয়।’’