দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবককে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার বিরুদ্ধে। পাল্টা বোমাবাজির অভিযোগ মৃতের পরিবারের বিরুদ্ধেও। এই ঘটনা ঘটেছে বসিরহাটের হাড়োয়ায়। সেখানকার শঙ্করপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নজরনগর এলাকার বাসিন্দা রাকেশ ইসমাইলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাশের গ্রাম ভিগেআইটের এক কলেজ ছাত্রীর। ফোনের মাধ্যমেই আলাপ হয় দু'জনের। জানা গিয়েছে, ৬ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল তাদের।
গতকাল শনিবার রাকেশের বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তাদের অনুমান, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে ওই যুবক। তাকে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গতকাল রাতে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল রাকেশের ঘরের দরজা। সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করেন বাড়িরন লোকেরা। দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়েও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশের খবর দেওয়া হয়। তারা এসে দরজা ভেঙে রাকেশের দেহ উদ্ধার করেছে।
কী এমন ঘটল যে আচমকা এমন সিদ্ধান্ত নিল ওই যুবক-----
পরিবারের অভিযোগ, ওই তরুণীর সঙ্গে অনেকদিন ধরেই সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল। গতকাল সন্ধ্যাতেও একাধিকবার ফোনে কথা হয় তাদের মধ্যে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণেই আত্মহত্যা করেছে তাদের ছেলে। আর তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে ওই তরুণী। আপাতত রাকেশের ফোনের কললিস্ট খতিয়ে দেখছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কে সমস্যার কারণেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই যুবক, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এলাকায় যথেষ্ট ভাল ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল রাকেশ। তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসী। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে হাড়োয়া ধর্মতলা বাজার এলাকায় ওই তরুণীর বাবার দোকানে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা ও মৃতের পরিবার। জানা গিয়েছে, তরুণীর বাবার একটি মাছের প্রক্রিয়াকরণ ঘর ছিল ওই এলাকায়। তাতেই বোমাবাজি করে মৃতের পরিবারের লোকজন। ভাঙচুর করা হয় দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিতার, চেয়ার-টেবিল। গোটা প্রক্রিয়াকরণ ঘরটি কার্যত তছনছ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৃতের পরিবারের বিরুদ্ধে। একটি বাইকও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে হাড়োয়া থানা থেকে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী।
ওই যুবকের মৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের পরিবারের পাশাপাশি অভিযুক্ত তরুণী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। অন্যদিকে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে রাকেশের দেহ। এদিকে হাড়োয়া থানায় দুই পরিবারই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।