দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের ময়নাতদন্তে উঠে এসেছিল একাধিক কারণ। তার মধ্যে অন্যতম ছিল স্থানীয় স্তরে তৃণমূল নেতাদের তোলাবাজি, দুর্নীতি, ইত্যাদি, প্রভৃতির অভিযোগ।
সেসব রোগ সারাতে তৃণমূল ঠিক করে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করবে। তৃণমূলের ভোট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব এখন পিকে-র টিম আইপ্যাকের হাতেই। কিন্তু সেখানেও কিনা তোলাবাজি!
‘আমি পিকে-র টিমের লোক’ পরিচয় দিয়ে যুব তৃণমূল নেতার কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল কুলটি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে ধৃতের নাম মৃত্যুঞ্জয় সিং।
ব্যাপার কী?
তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গিয়েছিলেন মৃত্যুঞ্জয় নামের ওই যুবক। গিয়ে নাকি তিনি বলেন, “আমরা পিকে-র টিমের পক্ষ থেকে কমিউনিটি কিচেন চালাব। তাই টাকা দিন।” সন্দেহ হতেই খোঁজ নেন যুব তৃণমূলের ওই রাজ্য নেতা। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন, প্রশান্ত কিশোরের টিমে আগে কাজ করছিলেন মৃত্যুঞ্জয়। কিন্তু নানান অভিযোগে তাঁকে ছ’মাস আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর কুলটি থনায়া মৃত্যুঞ্জয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্বজিৎ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত্যুঞ্জয়কে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের দাদা ধনঞ্জয় সিং বলেন, “গতকাল রাতে ভাই বাড়ি আসছে না দেখে খোঁজ শুরু করি। তারপর শুনি চিটিংবাজি করার জন্য ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমরা ভদ্র পরিবারের লোক। এই ঘটনা শুনে খারাপ লাগছে!” তবে তিনিও জানিয়েছেন, তাঁর ভাই আগে প্রশান্ত কিশোরের টিমে কাজ করতেন।
এমনিতে গত এক মাস যাবৎ একাধিক বার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে টিম পিকে-কে। একাধিক বাম নেতার কাছে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার অফার নিয়ে গিয়েও ফিরতে হয়েছে তাঁদের। সর্বশেষ প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাসকেও নাকি লালঝাণ্ডা ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিল পিকে-র টিম। ফোনেই নাকি ধমক দিয়ে দেন তথ্যপ্রযুক্তির অধ্যাপক। ধূপগুড়ি, রাজগঞ্জের মতো একাধিক জেলাতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে বামেদের দাবি।
তবে তৃণমূলের নেতার কাছ থেকে প্রশান্ত কিশোরের প্রাক্তন টিম মেম্বারের এই তোলাবাজির ঘটনা সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলেই মত অনেকের। এই নিয়ে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “এটাকেই বলে চোরের উপর বাটপারি! তৃণমূল নেতাদের সৎ হওয়া শেখাতে পারেনি পিকের টিম। উল্টে তাঁদের থেকে তোলাবাজির কায়দা শিখে ফেলেছে!”