দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসার করার জন্য শ্বশুরবাড়ির দরজাতেই ধর্নায় বসেছেন গৃহবধূ। এই ঘটনা ঘটেছে নদিয়া জেলায় ধুবুলিয়ায়। জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর নাম কাকলি হালদার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধুবুলিয়া থানার ৬ নম্বর কলোনি এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছেন কাকলি।
বছর তিনেক আগে ধুবুলিয়ার ভক্তনগর এলাকার বাসিন্দা কাকলির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ৬ নম্বর কলোনি এলাকার স্বর্ণশিল্পী তারক হালদারের। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই অশান্তি লেগে থাকত তারক এবং কাকলির মধ্যে। নানা কারণে হত ঝগড়াও। অশান্তির জেরে বাপের বাড়ি চলে যায় কাকলি। মেয়ের পরিবারের দাবি, সম্বন্ধ করেই বিয়েছিল কাকলির। বিয়ের আগে কিছুই বুঝতে পারেননি তারা। কিন্তু বিয়ের পর থেকে নিত্যদিন ঝামেলা হত কাকলির শ্বশুরবাড়িতে।
প্রতিবেশীরা অনেকবার বুঝিয়ে সুঝিয়ে পাঠালেও শ্বশুরবাড়ির লোক কিছুতেই কাকলিকে মেনে নিতে চাইনি। অগত্যা কোনও উপায় না পেয়ে সংসার করার দাবিতে এবার ধর্নাতেই বসেছেন কাকলি। সাতসকালে শ্বশুরবাড়ির সামনে কাকলি ধর্নাতে বসতেই ভিড় জমান পাড়া-প্রতিবেশী। কাকলি যাতে ঠিকভাবে সংসার করতে পারে সেটাই চান এলাকাবাসীও। কিন্তু কাকলির শ্বশুরবাড়ির লোক কেন তাঁকে মেনে নিচ্ছে না সে ব্যাপারে অবশ্য সঠিক ভাবে কিছু জানা যায়নি। তারকের পরিবার কেন এমন অদ্ভুর আচরণ করছে তা দেখে হতবাক প্রতিবেশীরাও।
এদিকে কাকলিকে সকালবেলা ধর্নায় বসতে দেখে খানিকক্ষণ বাড়িতে তালা দিয়ে চম্পট দিয়েছেন তারক এবং তাঁর বাবা-মা। তাঁদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। যদিও কাকলি জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে রোজই নানা কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত তাঁর। অভিযোগ, তাঁকে ঠিকমতো খেতেও দিত না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নিজের মতো রান্নাবান্না করার স্বাধীনতাও ছিল না। এমনকি ননদ এসে সংসারের নানা বিষয়ে ঝামেলা লাগিয়ে যেত বলেও অভিযোগ করেছেন কাকলি। তবে মাঝে বাপের বাড়ি ফিরে গেলেও এখন সংসার করতে চান তিনি। তাই ফিরে যেতে চান শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে মেনে না নেওয়ায় কোনও উপায় না পেয়েই ধর্নায় বসেছেন বলে জানিয়েছেন কাকলি।