দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের সব বিধায়ক এবং জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে সিপিএমের মডেলে বুথ ভিত্তিক হোলটাইমার নিয়োগের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা বলবেন নেত্রী। বুথ পিছু চারজন সর্বক্ষণের কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু এই কর্মীরা কি ভাতা বা কোনও বেতন পাবেন? এ নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে শাসকদলের অন্দরে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, সোমবারের বৈঠকে এটাই মূল আলোচ্য বিষয়। অবশ্য শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই মত, সবটাই নেত্রী ঠিক করেন। শেষ মুহূর্তে বিষয় বদলে গেলেও অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে তৃণমূলের প্রায় সকলেই মেনে নিচ্ছেন, বুথ স্তরের সংগঠনকে ঢেলে সাজানো নিয়ে আলোচনা হবে সোমবার নজরুল মঞ্চের বৈঠকে।
এ নিয়ে যে দলের ভিতরে ফারাক তৈরি হতে পারে তা-ও মনে করছেন অনেকে। দেখা যাবে এরকম অনেক বুথ রয়েছে, সেখানে এমন অনেক কর্মী আছেন, যাঁদের তৃণমূল করাটাই কাজ। সেখানে কারা হোলটাইমারশিপ পাবেন আর কারা পাবেন না, তা নিয়ে নিচু তলায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু কর্মীদের আলোচ্য বিষয় এখন, এই হোলটাইমার রাখার পরিকল্পনা কি শুধুই স্বেচ্ছাশ্রম নাকি কিছু ভাতাও দেবে দল?
সিপিএমে যেমন হোলটাইমার ওয়েজ (সর্বক্ষণের কর্মীর ভাতা) চালু আছে। জেলা বিশেষে তার তারতম্য থাকলেও, দলের হোলটাইমারদের ভাতা দেয় দলই। কোনও কোনও জেলা এমন আছে যেখানে সিপিএমের হোলটাইমার-সহ তাঁর পরিবারের লোকজনের চিকিৎসাভারের একটি অংশও দল দেয়। কলকাতা জেলা সিপিএম যেমন, এগুলির সঙ্গে সঙ্গে বছরে একবার বেড়াতে যাওয়ার টাকাও দেয়। কিন্তু তৃণমূল কী করবে?
লোকসভা ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, জনসংযোগ হারিয়েছে তৃণমূল। বুথে বুথে নেতা থাকলেও তাঁদের গতিবিধি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। সমস্যার কথা মানুষ বলতে পারেন না। অনেকাংশে তাঁরাও শুনতে চান না। রোগ ধরা পড়েছে। এ বার তা নির্মূল করতে চাইছে শাসক দলের নেতৃত্ব। রাজ্যে প্রায় ৭৭ হাজার বুথ রয়েছে। বুথ পিছু চারজন হোলটাইমার নিয়োগ করলে সারা রাজ্যে সংখ্যাটা দাঁড়াবে তিন লক্ষ্যের বেশি। অন্যদিকে বিজেপি-ও বুথ স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে মরিয়া। বাংলায় গতি বাড়াচ্ছে সঙ্ঘ পরিবারও। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সংগঠন চাঙ্গা করতে নেত্রী কী বার্তা দেন, দল কী সিদ্ধান্ত নেয় তা জানতে রাজনৈতিক মহলের চোখ থাকবে সোমবারের নজরুল মঞ্চেই।