
শেষ আপডেট: 3 December 2020 14:46
অনেকে মনে করছেন, এবার গোটা রাজ্যে সিপিএমের প্রার্থী দেওয়ার জন্য আসন অনেকটাই কমে যাবে। একে তো বড় সংখ্যায় আসনে লড়বে কংগ্রেস। কারণ তারাই বিরোধী দল। তারপর বামফ্রন্টের ভাগে যে আসন পড়ে থাকবে তার মধ্যে সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো শরিক দলগুলিকে আসন ছাড়তে হবে। নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হতে পারে সিপিআইএম লিবারেশনের মতো বাম দলগুলিও।
সিপিএমের একটি সূত্রের দাবি, সে কারণেই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয়ে এবার বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম, বাছা বাছা কিছু কেন্দ্রে অরাজনৈতিক কিন্তু সামাজিক পরিচিতি রয়েছে এমন ব্যক্তিত্ব।
লকডাউনের মধ্যে সৌরভ পালোধীর ফেসবুক পেজের অনলাইন আড্ডায় শ্রীলেখা বলেছিলেন, হঠাত্ করে অন্য দল করা গেলেও সিপিএম হওয়া যায় না। এও জানিয়েছিলেন, তিনি গোড়া থেকেই বামপন্থায় বিশ্বাসী। আর সৌরভ তো কথাই নেই। মূল্যবৃদ্ধি থেকে সিএএ এনঅরসি, ধর্মঘট থেকে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন—সব বিষয় নিয়েই সরব। 'আমি সিপিএম' বলতে কুণ্ঠা করেন না কখনও।
সিপিএমের এক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, পার্টির এই কঠিন সময়ে অন্যান্য কথা না ভেবে যে ভাবে শ্রীলেখা, সৌরভদের মতো শিল্পীরা এগিয়ে আসছেন তা প্রশংসনীয়। তাঁর কথায়, অনেকেই যখন একটা কমিটি পাওয়ার জন্য সরকারের পদলেহন করছেন তখন এঁরা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। ওই সিপিএম নেতা বলেন, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনীক দত্ত, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীদেরও ভূমিকা ইতিবাচক।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতায় এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সৌরভকে দাঁড় করানোর কথা ভাবছে সিপিএম। ওই কেন্দ্রে গতবারও সিপিএম প্রার্থী কম ব্যবধানে হেরেছিলেন। তা ছাড়া ওই এলাকাতে আগে সৌরভরা একটি সরকারি আবাসনে থাকতেন। অনেকে মনে করেন, সৌরভদের মতো নতুন প্রজন্মকে সিপিএম এগিয়ে আনলে ইতিবাচক বার্তা যাবে। এরাই পারবে আরও বেশি করে বর্তমান প্রজন্মকে বামপন্থী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে।