দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিকাশ ভবনের সামনে টানা অনশনের পর প্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে ৩৬০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর কেটে গিয়েছে এক মাসের বেশি সময়। কিন্তু জারি হয়নি সার্কুলার। এ দিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষক দিবসের দিন যদি ওই সার্কুলার জারি না হয়, ফের আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষক দিবসের সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে অনেকেই দেখতে চাইছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা হওয়ার পর আজই এই সার্কুলার জারি করে কিনা শিক্ষা দফতর।
অন্যদিকে সপ্তাহ দুয়েক আগে হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স করে নতুন কাঠামোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। যাতে কলেজে কর্মরত চুক্তি ভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষক, আংশিক সময়ের শিক্ষক এবং অতিথি শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর মধ্যে আনা যায়। কিন্তু তারও কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। সবটাই মৌখিক। তাঁরাও চাইছেন দ্রুত জারি হোক সার্কুলার।
প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, যা কথা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামো নির্দিষ্ট করতে হবে। তা না হলে ফের তাঁরা আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিকাশ ভবনের অদূরেই অনশনে বসেন প্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকরা। ১৪ জন শিক্ষকের বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে অনশন চলে ১২ দিন। একুশে জুলাই যখন ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবসের সমাবেশ হচ্ছে, তখন বিকাশ ভবনের সামনে অনশনে শিক্ষকরা। একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। অবশেষে ২৩ জুলাই ৩৬০০ টাকা গ্রেড পে ঘোষণা করে সরকার।
অনেকের আশা, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হয়তো আজই জারি হবে বিজ্ঞপ্তি। এখন দেখার আজই সেই সার্কুলার জারি হয় কি না। নাকি ফের আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটতে হয় শিক্ষকদের।