দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানবন্দর কাণ্ডে স্বস্তি মিলল তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলার। লোকসভা ভোটের মধ্যে তাঁকে আর কাস্টমসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় এবং বিচারপতি মহম্মদ নিজামুদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, কাস্টমসের কাছে এক্ষুণি হাজিরা দিতে হবে না রুজিরাকে। ২০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে আদালত জানিয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর এবং রুজিরাকে হলফনামা দিতে হবে আদালতে।
এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ নির্দেশ দিয়েছিলেন, ৮ এপ্রিল (আজ) কাস্টমসের কাছে হাজিরা দিতে হবে অভিষেকের স্ত্রীকে। এ দিন ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান রুজিরা। দু’পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর আদালত বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন কাস্টমসের দিকে। এক, ঘটনা ঘটেছিল ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে। তাহলে কেন অভিযোগ দায়ের করতে ২২ তারিখ হয়ে গেল। দুই, সমন পাঠাতে কেন ২৬ তারিখ হয়ে গেল। শুনানির শেষে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ২০ জুন হবে মামলার পরবর্তী শুনানি। আদালত এ দিন বলে, এই প্রক্রিয়া করতেই যখন এত সময় লেগেছে,তখন কাস্টমসে হাজিরার ক্ষেত্রেও দ্রুততার দরকার নেই।
বিমানবন্দর কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নির্বাচনী অফিসে ‘ব্যক্তিগত’ সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে হয়। সেখানে অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী বলেই রুজিরাকে হেনস্থা করেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। পাল্টা কাস্টমস আধিকারিকরা আদালতে জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। বিমানবন্দরে যে এলাকায় কাস্টমস ছাড়া অন্য কারও ঢোকার এক্তিয়ার নেই, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। আদালতে কাস্টমেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সমস্ত ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।
শুল্ক দফতরের বক্তব্য, রুজিরা একজন থাই নাগরিক। ১৫ ও ১৬ মার্চের মাঝের রাতে তিনি ব্যাঙ্কক থেকে থাই এয়ারওয়েজের বিমান কলকাতায় ফেরেন। তাঁর সঙ্গে অন্য এক জন মহিলা ছিলেন। এবং দু’জনের কাছে মোট সাতটি ব্যাগ ছিল। গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় শুল্ক দফতরের কর্তারা তাঁদের দু’টি ব্যাগ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্ক্যান করতে চান। কিন্তু তাতে বাধা দেন রুজিরা। শুধু তা নয়, বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে শুল্ক দফতরের কাজে বাধা দেয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এ কথা সুপ্রিম কোর্টকেও সম্প্রতি জানিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করেও ঘটনার তারিখ এবং অভিযোগ দায়েরের তারিখের মধ্যে ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থীও কাস্টমসের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। এ দিন আদালতও সেই প্রশ্ন তুলেই, মামলাটি পিছিয়ে দেন। ফলে ভোটের মধ্যে বিমানবন্দর কাণ্ড নিয়ে নতুন করে আর জলঘোলা হবে না বলেই মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।