কাটোয়ায় ফিরতেই দরজা বন্ধ করলেন স্ত্রী, বেলেঘাটায় যেতে হল ‘করোনা মুক্ত’ সার্টিফিকেট আনতে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের ধাক্কা লাগল ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে। স্বামী উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরেছেন তাই করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় তাঁকে বাড়িতে ঢুকতেই দিলেন না স্ত্রী। বাধ্য হয়ে তাই স্বামীকে কাটোয়া থেকে যেতে হল কলকাতার বেলেঘাটা
শেষ আপডেট: 17 March 2020 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের ধাক্কা লাগল ৩৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে। স্বামী উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরেছেন তাই করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। এই আশঙ্কায় তাঁকে বাড়িতে ঢুকতেই দিলেন না স্ত্রী। বাধ্য হয়ে তাই স্বামীকে কাটোয়া থেকে যেতে হল কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। সেখান থেকে ‘করোনা মুক্ত’ বলে শংসাপত্র পাওয়ার পরে বাড়িতে ঢুকতে দিলেন স্ত্রী।
কাটোয়ার স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার মণ্ডলবাড়িতে আপাতত ‘একঘরে’ হয়ে রয়েছেন অরুণ মণ্ডল। স্ত্রীর নির্দেশে ১৪ দিন তাঁকে কাটাতে হবে কুঠুরিতে।
বাড়ির লোকজন কোনও মতে রাজি না হলেও ব্যবসায়ী অরুণ মণ্ডল ৬ মার্চ একাই দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ১৩ মার্চ বিকেলে তিনি ফিরে আসেন। তবে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন স্ত্রী কল্পনা মণ্ডল। তিনি স্বামীকে স্পষ্ট ভাবে বলেন, “চারদিকে এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাচ্ছি অতএব তোমাকে করোনা মুক্ত বলে চিকিৎসকের সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে। তবেই বাড়িতে ঢুকতে দেব।”
[caption id="attachment_196739" align="aligncenter" width="585"]

কল্পনা মণ্ডল[/caption]
কোনও কথাতেই চিঁড়ে ভেজেনি। ৩৫ বছর ধরে ঘর করে আসা স্ত্রী যে এমন ভাবে বেঁকে বসবেন তা ভাবতেই পারেননি অরুণ মণ্ডল। রাতটা সিঁড়ির নীচে কাটানোর অনুমতি দিয়েছিলেন স্ত্রী। পরের দিন ভোর হতে না হতেই ‘করোনা মুক্ত’ সার্টিফিকেট আনতে কলকাতার বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এমন শংসাপত্র পেতে চিকিৎসকদের কার্যত হাতে পায়ে ধরেন তিনি কিন্তু নিয়মমাফিক পরীক্ষা না করে চিকিৎসকরাও তো এমন শংসাপত্র দিতে পারেন না। অগত্যা তাঁকে লালারসের নমুনা দিতে হল। তারপরে যথাসময়ে হাতে পান রিপোর্ট। তাঁর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নেই। তবে তাতেও নিস্তার মেলেনি।
বাড়িতে ফিরলেও এখন তাঁর স্থান হয়েছে সিঁড়ির নীচে একচিলতে ঘরে। আলাদা থালা বাটি গ্লাস। এভাবেই থাকতে হবে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে। তারপরে ঘরে ঢোকার অনুমতি।
স্ত্রীর অত্যন্ত সচেতনতা নাকি পরিবার ছাড়া একাই দার্জিলিংয়ে বেড়িয়ে আসার খেসারত নাকি দুটোই – ডাক্তারের শংসাপত্র থাকলেও কেন তাঁকে এভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে তা বলতে পারবেন তাঁর পরিবারের লোকজনই।