দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: দু’দিন আগে খড়্গপুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ব্যবসায়ী এম ইশ্বর রাওয়ের ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক ভাবে রহস্যমৃত্যু মনে হলেও, পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এম ঈশ্বর রাওয়ের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ব্যবসায়ীর মেয়ে –সহ পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়, এই মৃত্যু আত্মহত্যা নয়। তাঁর বাবাকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি কিশোরী মেয়ের। ময়নাতদন্ত হলেও রবিবার পর্যন্ত সেই রিপোর্ট আসেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ী ঈশ্বর রাওয়ের স্ত্রী রেলের কর্মচারী। প্রেমিক হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে তিনিও রেলের কর্মচারী। কাজের জায়গাতেই দু’জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। গত কয়েক মাস আগে বিষয়টি জানাজানিও হয় পরিবারে।
পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর মাসে ওই ব্যক্তির সঙ্গে দিঘা, মন্দারমণি বেড়াতে গিয়েছিলেন ঈশ্বর রাওয়ের স্ত্রী। ফোনে ছবি দেখেই বিষয়টি জানাজানি হয়। ব্যবসায়ীর ভাই ভেঙ্কটরমণ রাও আবার বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর। তিনিও জানিয়েছেন, তাঁর বউদির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা। তাঁদের অভিযোগ, ওই সম্পর্কে দাদা বাধা দেওয়ার ফলেই পথের কাঁটা সরাতে খুন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পর স্ত্রীকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন ঈশ্বর রাও। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সী মহিলা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি চাকরি ছাড়বেন না। এ নিয়ে রোজই অশান্তি লেগে থাকত। ব্যবসায়ীর কিশোরী কন্যা জানিয়েছে, প্রায়ই রাতে বাড়ি ফিরতেন না মা। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে খড়্গপুর পুলিশ। আগামী কাল সোমবার দু’জনকে আদালতে তোলা হবে।