‘বাংলায় তিনটে মারাত্মক ট্রেন্ড চলছে…’, মমতার আক্রমণের জবাবে কী বললেন অমিত শাহ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেল, তখনও বোলপুরে রোড শো চলছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর। তিন আইপিএস অফিসার বদলি প্রসঙ্গে একটি টুইট বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, কেন্দ্রের সরকার নির্লজ্জভাবে রাজ্যের এক্তিয়ারে নাক গলাতে চাইছে।
দি
শেষ আপডেট: 20 December 2020 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেল, তখনও বোলপুরে রোড শো চলছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর। তিন আইপিএস অফিসার বদলি প্রসঙ্গে একটি টুইট বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, কেন্দ্রের সরকার নির্লজ্জভাবে রাজ্যের এক্তিয়ারে নাক গলাতে চাইছে।
দিদির সেই অভিযোগ ও আক্রমণের স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিতে চাইলেন অমিত শাহ। তাঁর মন্ত্রকই নবান্নকে চিঠি লিখে তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন—
- “কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ম অনুযায়ী, আইনের ধারা উদ্ধৃত করে তার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে রাজ্যকে চিঠি লিখেছে। এতে কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর শর্ত লঙ্ঘন করা হয়নি।”
- “বাংলায় তৃণমূল জমানায় তিনটে মারাত্মক ট্রেন্ড চলছে—প্রশাসনের সম্পূর্ণ রাজনীতিকরণ, রাজনীতির পুরোপুরি অপরাধীকরণ আর দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় পরিণত করেছে।”
- “বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে যে হামলা হয়েছে, তা আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর হামলা। বাংলায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল।”
- “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন বাংলায় ৩৫৬ ধারা জারি করা হোক। বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক, যাতে তিনি সহানুভূতি পেতে পারেন। কিন্তু এই বিষয়টা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সাংবাদিক বৈঠকে আলোচনার ব্যাপার নয়।”
বাংলায় পুলিশ প্রশাসনের একাংশ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে বলে বিরোধী রাজনীতিকদের অনেকে প্রায়ই অভিযোগ করেন। অমিত শাহর বক্তব্য সে ভিন্ন নয়। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অমিত শাহ পষ্টাপষ্টিই বোঝাতে চেয়েছেন বিজেপি সভাপতির উপর যে হামলা হয়েছে যা পুলিশ প্রশাসনের এক শ্রেণির প্রশ্রয়েই হয়েছে। এই প্রশ্রয়, প্রশাসনের এই রাজনীতিকরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।
বিজেপি সভাপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস কর্তাকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পর থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ তৃণমূল সাংসদরা বলছেন, ঘুরপথে বাংলায় জরুরি অবস্থা লাগু করার চেষ্টা রয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, এটা অসাংবিধানিক এবং কোনওভাবেই মানা যায় না।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার একটা চিন্তা শাসক দলে রয়েছে। আবার অনেকের ধারণা সেখানে গিয়ে বাংলার সরকারের কোনও সুরাহা নাও হতে পারে। কারণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যা করেছ তা সেন্ট্রাল ক্যাডার রুল অনুযায়ী করেছে। এই অবস্থায় তিন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেজরিওয়াল, স্ট্যালিনদের পাশে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সমষ্টিগত রাজনৈতিক আক্রমণের চেষ্টাও শুরু হয়েছে।
এমনিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা নয়। অমিত শাহও এদিন আইনের ধারা বা উপধারা নিয়ে বিশেষ আলোচনায় যাননি। তবে অবশ্যই বোঝাতে চেয়েছেন কেন্দ্র তার অবস্থানে অনড়। পিছু হটার প্রশ্ন নেই।
এ প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, "মমতাজি যখন কংগ্রেসে ছিলেন, ইন্দিরা গান্ধী বাংলায় এলে কী বলতেন? বহিরাগত? যখন নরসিংহ রাও আসতেন কী বলতেন? এটা স্রেফ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। আপনার বিরুদ্ধে বাংলার ভূমিপুত্রই লড়বে। বাংলার ভূমিপুত্রই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে। এটা তো সংকীর্ণচিন্তা। বাংলা মুক্ত চিন্তার জায়গা।"