দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামপুরে দুই ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদে বুধবার রাজ্য জুড়ে বিজেপি'র ডাকা বনধ রুখতে তৎপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন।
নবান্ন সূত্রে খবর, বনধ মোকাবিলার জন্য বুধবার সব মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজের নিজের এলাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীগোষ্ঠীর সদস্যদেরও প্রথমার্ধে নিজের নিজের এলাকায় থেকে বনধ মোকাবিলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে নবান্ন থেকে নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার দুপুর ৩ টে থেকে নবান্নে ফের বৈঠকে বসবে মন্ত্রীগোষ্ঠী। সেই সময় নবান্নর কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা রাজ্যে নজরদারি চালানো হবে বলে খবর। শাসকদলের তরফে কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে বনধের বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। কর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশ, কোনও অবস্থাতেই স্বাভাবিক জনজীবন বন্ধ করা যাবে না।
এ দিন অর্থ দফতর নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, উপযুক্ত এবং আপৎকালীন কোনও কারণ ছাড়া ওই দিন কোনও কর্মীর ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর সে দিনের বেতন কাটা হবে এবং গোটা কর্মজীবনের থেকে একদিন কেটে নেওয়া হবে। বনধের দিন অর্ধদিবসের ছুটিও মঞ্জুর হবে না। সোমবার পর্যন্ত যাঁরা ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের আজ, মঙ্গলবার কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ, বনধের আগের দিন মঙ্গলবার এবং পরের দিন বৃহস্পতিবার ছুটি দেওয়া হবে না।
সোমবার মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, " স্কুল-কলেজ, কারখানা সব কিছু যাতে ঠিকঠাক চলে তার জন্য আমরা আবেদন করেছি। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন বাংলা বনধের দিন আপনারা পরিষেবা স্বাভাবিক রাখুন। সরকার নিরাপত্তা দেবে।” রাজ্যে বুধবার পরিবহণ যাতে স্বাভাবিক থাকে তা নিশ্চিত করতে পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলা হয়েছে বলে জানান পার্থবাবু।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি জানিয়েছেন, বনধের দিন ভোর পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম চালু রাখবে পরিবহণ দফতর। ওই দিন কলকাতায় অতিরিক্ত ৫০০ বাস রাস্তায় নামানো হবে। ফেরি ৩৫ এর পরিবর্তে ওই দিন থাকবে ৫০টি। সংখ্যা দ্বিগুণ করে প্রায় ৮০টি ট্রাম চালানো হবে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম অতিরিক্ত বাস নিজেদের ডিপোয় মজুত রাখবে। বনধ সংক্রান্ত কোনও গোলমালে বেসরকারি বাসের গাড়ি কাচ ভাঙলে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আরও বড় ক্ষতির ক্ষেত্রে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। বেসরকারি কোনও বাস বা মিনিবাস উপযুক্ত কারণ ছাড়া রাস্তায় না নামলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পারমিট বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।