দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন্ রাজ্যে থাকা পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের নিয়ে ইতিমধ্যে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইট বার্তা থেকেই জানা গিয়েছে, কেরল ও রাজস্থানের আজমেঢ় থেকে রওনা হয়ে ওই দুই ট্রেনে আড়াই হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরেছেন।
কিন্তু লোকসভায় কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরিই প্রশ্ন তুললেন, বাকি শ্রমিকদের কী হবে? বুধবার রাতে অধীরবাবু বলেন, “আমি রাত সাড়ে ৯ টার সময় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে কথা বলেছি। ওঁকে জিজ্ঞেস করেছি অন্য রাজ্যগুলি থেকে কি বাংলায় ট্রেন পাঠানো হচ্ছে? রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুটি ট্রেন বাংলা পৌঁছেছে। আর কোনও ট্রেন চেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেল মন্ত্রকের কাছে এখনও আবেদন জানায়নি। বুধবার সারাদিনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও আবেদন আসেনি।”
এ কথা জানিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, "আমি বিনীত ভাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইছি, রেলমন্ত্রী কি ভুল বলছেন? সত্যি কি আপনি আর ট্রেন চাননি? তা হলে বাংলার যে শ্রমিকরা ভিন্ রাজ্যে আটকে পড়ে রয়েছেন, যাঁরা বিভ্রান্ত, দিশাহীন, প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের কী হবে? তাঁরা কি এটাই ধরে নেবেন যে তাঁদের নিজের রাজ্য তাঁদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে!"
তাঁর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, আড়াই হাজার শ্রমিককে ফেরানো হচ্ছে। কিন্তু দশ থেকে বারো লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের তুলনায় সেই সংখ্যাটা কত শতাংশ সরকার হিসাব করে দেখেছে কি!"
রাজ্য সরকারের একটি সূত্রে খবর, এত লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে ফেরানো যে সম্ভব নয় সেটা সরকার ভাল করে বুঝতে পারছে। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরিকাঠামো এখানে নেই। সে জন্য খরচের বহরও বিপুল। তা ছাড়া সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণে প্রশাসনের মধ্যেই অনেকের মত হল, মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও দিল্লি থেকে কাউকে ফেরানোর ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল। কারণ ওই তিন রাজ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বলেছন, "পর্যায়ক্রমে বাইরের রাজ্যগুলি থেকে শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী এবং তীর্থযাত্রীদের রাজ্যে ফেরানোর কাজ চলবে।" তিনি এও বলেন, যাঁরা রাজ্যে ফিরছেন তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু মেডিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যথাযথ স্ক্রিনিং, টেস্টের পরেই তাঁদের বাড়িতে ফেরানো হবে।" ব্যক্তিগত ভাবে যাঁরা গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ফিরছেন তাঁদের উদ্দেশে নবান্নের বার্তা, স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে একটি অ্যাপ রয়েছে সেখানে যদি তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করেন তাহলে সরকারের পক্ষে গোটা প্রক্রিয়াটা করতে সুবিধে হবে।