
শেষ আপডেট: 20 October 2020 12:06
চলতি মাসের প্রথম দিকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। সেই চিঠিতে ডাক্তারবাবুরা বলেন দুর্গাপুজোয় কড়া বিধিনিষেধ জারি না হলে বাংলায় পুজোর পরে করোনা সংক্রমণের সুনামি বইবে। চিকিৎসকদের যৌথমঞ্চ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে কেরল ও স্পেনের উদাহরণ দেন। তাতে বলা হয়, ওনাম উৎসবে কড়াকড়ি শিথিল করেছিল কেরল সরকার। তারপর দক্ষিণের এই রাজ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বসেছে। স্পেনে ফুটবল ম্যাচে দর্শক ঢুকতে দিয়েও একই বিপত্তি ঘটেছে। বাংলায় তেমন যেন না হয়।
অন্যদিকে গতকালই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। কোভিড পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। সেই মামলার রায়ে হাই কোর্ট বলেছে, রাজ্যের প্রত্যেকটি পুজো মণ্ডপকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে গণ্য করতে হবে। বড় পুজোর ১০ মিটার ও ছোট পুজোর পাঁচ মিটারের মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মণ্ডপের শেষ অংশ থেকে এই দূরত্বের পরিমাপ করতে হবে। পুজো কমিটির সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ এই বিধি কার্যকর করবে। পুজোর কাজে কত জন যুক্ত থাকতে পারবেন তাও আদালত বলে দিয়েছে। বড় পুজোর ক্ষেত্রে ২৫ জন এবং ছোট পুজোর ক্ষেত্রে ১৫ জন মণ্ডপের ভিতর পুজোর কাজ করতে পারবেন। কোনটা ছোট পুজো বা কোনটা বড় পুজো তা ঠিক করবে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ লিফলেট আকারে প্রতিটি পুজো কমিটিকে পৌঁছে দিতে হবে পুলিশকে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ব্যাপারে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। সারা রাজ্যে পুজোয় কেমন ভিড় হল না হল, আদালতের নির্দেশ কেমন কার্যকর হল তা লক্ষ্মী পুজোর চার দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে সেই রিপোর্ট দিতে হবে।