দ্য ওয়াল ব্যুরো: জগদীপ ধনকড় বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর থেকেই গত তিনমাসে একাধিক সংঘাত হয়েছে রাজভবন আর নবান্নের। এবার তাতেই নতুন সংযোজন বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত। তিনটি বিল রাজভবন অনুমোদন দেয়নি বলে বুধ ও বৃহস্পতিবারের বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হল। রাজভবনের তরফে বিবৃতি জারি করে পাল্টা বলা হল, অবাস্তব কথা বলা হচ্ছে। ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। গোটা ঘটনায় বিরোধীরা বলছেন, গণতান্ত্রিক সমস্ত বন্দোবস্তকে গলা টিপে খুন করতে চাইছে বাংলার সরকার।
এদিন বিধানসভার অধিবেশনেই অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, সরকারের তরফে তিনটি বিল রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটিও অনুমোদন দেয়নি রাজভবন। ফাইলগুলি সেখানেই পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দু’দিন বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে দেন অধ্যক্ষ।
মঙ্গলবার বিকেলবেলা অধিবেশন স্থগিতের খবর জানা যায়। এর সওয়া ঘণ্টার মধ্যেই রাজভবনের তরফে পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়। তাতে স্পষ্ট বলা হয়, রাজভবন কোনও বিল আটকে রাখেনি। বিলগুলি যাতে দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন দেওয়া যায় তার জন্য অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু যে দফতরের বিল, সংশ্লিষ্ট দফতরের থেকে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তারা সেই তথ্য দিতে দেরি করাতেই এই বিলম্ব বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এসটি-এসসি কমিশন ও শিক্ষা সংক্রান্ত তিনটি বিল অনুমোদনের জন্য রাজভবনে পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “এরা বিধানসভাকে নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেছে। অতীতে কোনও দিন স্পিকার এ ভাবে চেয়ার থেকে রাজভবনের দোহাই দিয়ে অধিবেশন স্থগিত করেছেন বলে আমার জানা নেই।” বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “শাসকদলের বিধায়করা সবাইকে ধমকাচ্ছেন। কাউকে কথাই বলতে দিচ্ছেন না। কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই এরা মানতে চাইছে না।”
বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা তথা সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিধানসভা এই ভাবে দু’দিন স্থগিত করে দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। অতীতে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। নিশ্চয়ই সরকারের কিছু একটা মতলব আছে। তাই এসব করেছে।” কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী আক্রমণের সুর আরও তীব্র করে বলেন, “এটা বিধানসভা না হরি ঘোষের গোয়াল বুঝতে পারছি না।”
বিরোধীদের বক্তব্য, বিধানসভায় কী হবে না হবে, এ তো আগে ঠিক হয়ে যায়। কবে কী আলোচনা হবে, প্রশ্নোত্তর পর্ব সবটাই আগে থেকে নির্ধারিত থাকে। তাঁদের দাবি, যে বিলের কথা বলা হয়েছে সসে ব্যাপারে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। হঠাৎ শোনা যাচ্ছে বিল নাকি রাজভবনে পড়ে রয়েছে।