দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!
বরাবরই তিনি ঠোঁটকাটা। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে যা খুশি বলে দেন। এতে দলকেও বিপাকে পড়তে হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তৃণমূলের হয়ে প্রচার নিয়ে বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস বিতর্কে যখন নয়াদিল্লি-ঢাকা তোলপাড়, তখন তাঁকে ঢাকতে গিয়ে অন্য বিতর্ক তুলে দিলেন শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের প্রচারে যে সেলিব্রিটিদের দেখা যায়, তাঁদের অনেককেই পয়সা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পয়লা বৈশাখের দুপুরে রায়গঞ্জ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে রোড শো এবং সভা করেছিলেন বাংলাদেশের সুপার স্টার ফিরদৌস। তারপরই প্রশ্ন ওঠে, কী করে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে তিনি ভারতের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করেন। কমিশনে যায় বিজেপি। নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ হাই কমিশন। মঙ্গলবার রাতে বিদেশমন্ত্রক ফিরদৌসের বিজনেস ভিসা বাতিল করে দেয়। ব্ল্যাক লিস্টেড করে তাঁকে ঢাকা ফিরে যাওয়ার নোটিস দেয় বিদেশমন্ত্রক। বিপাকে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশি অভিনেতা নুরকেও। এ প্রসঙ্গেই কল্যাণ আইনের নানান দিক তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে বলেন, “বিজনেস ভিসা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিজনেস ভিসা নিয়ে এলে যখন প্রচার করছে তখন পয়সাও নিতে পারে।” এই পর্যন্ত নয় ঠিক ছিল। বোঝা যেত ফিরদৌসকে আড়াল করতে গত দশ বছরের শ্রীরামপুরের সাংসদ এ কথা বলছেন। কিন্তু তিনি তো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। থামেননি। কথার রেশ ধরেই বলেন, “আর্টিস্টকে আমরা নিয়ে আসি না প্রচারে! তারা তো আমাদের কাছ থেকে পয়সা নেয়। তাহলে ইট ইজ এ পার্ট অফ এ বিজনেস। তার কাছে পার্ট অফ এ বিজনেস।” তিনি এ-ও বলেন, “এই কারণে ভিসা বাতিল, এতে মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শুনে কপাল কুঁচকেছেন তৃণমূলের অনেক মাঝারি নেতাই। তাঁরাও জানেন না, নায়ক-নায়িকাদের ‘ভাড়া করে’ নিয়ে যাওয়া হয় প্রচারে। শ্রীরামপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, “আমি তো জানতাম সবাই দিদির হয়ে গলা ফাটাতেই প্রচারে বেরোয়। এর পিছনেও যে নোটের খেলা, তা এত দিন তৃণমূল করলেও আমার জানা ছিল না।”
কল্যাণের এই মন্তব্য নিয়ে তোপ দেগেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের এক নেতার কথায়, “তৃণমূলের সেলিব্রিটি বেলুনে কল্যাণবাবুই আলপিন ফুটিয়ে দিয়েছেন।” গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্য বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “ভোটে কোন প্রার্থী কত খরচ করছে, সেই হিসেব কমিশনকে জমা দিতে হয়। কল্যাণবাবুর এই বক্তব্য খতিয়ে দেখে কমিশন তদন্ত করুক, সেলিব্রিটিদের পিছনে তৃণমূল কত টাকা খরচ করছে।” রাজনৈতিক মহলের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ভোটে কি কোনও ব্যক্তিকে ভাড়া করতে পারে রাজনৈতিক দলগুলি? যদিও অনেকে আবার এ প্রসঙ্গে বলছেন, ছৌ শিল্পী, আদিবাসীদের ধামসা-মাদল সহযোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডই তো দেখা যায় ভোটের প্রচারে। সেটায় বাধা না থাকলে এ ক্ষেত্রে বাধা হবে কী করে?
[caption id="attachment_96389" align="aligncenter" width="650"]

মিছিলে বাদশা মৈত্র[/caption]
অন্য রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারে যাঁরা যান, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হয়? বামেদের প্রচারে সামিল হতে দেখা যায় অভিনেতা বাদশা মৈত্রকে। বাদশার সঙ্গে দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যিনি এই কথা বলেছেন, তাঁর থেকে এটাই আশা করা যায়। আমিও শুনেছি এ রকম হয়। কিন্তু আমি যখন বামেদের প্রচারে যাই সেখানে টাকার নেওয়ার প্রশ্নই নেই। বামপন্থী বন্ধুরা অনেক সময় আমায় বলেন, গাড়ির তেলের খরচ নিতে। আমি সেটাও নিই না। আমি যাই রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে।” নাট্য ব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধীকেও দেখা যায় সিপিএমের মিছিলে। তরুণ এই নাট্যকার এই কথা শুনে শুধু বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথাটা বলেছেন! এ বাবা! ছিঃ ছিঃ।”
[caption id="attachment_96391" align="aligncenter" width="341"]

সিপিএমের ব্রিগেডে সৌরভ পালোধী ও তাঁর স্ত্রী তূর্ণা দাশ[/caption]
কল্যাণের এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের সাংস্কৃতিক সেলের আহ্বায়ক তথা অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার বলেন, "জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে আমি দলের এই দলের দায়িত্ব নিয়েছি। কেউ টাকা নিচ্ছেন কি না সেই গোয়েন্দাগিরি এখনও করিনি। আপাতত শুধু দায়িত্ব সামলাচ্ছি। যে দায়িত্ব আমায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন, তারপরে টাকা নিয়ে প্রচারে গেলে তাঁর মূল্যবোধে আঘাত লাগবে।" সেই সঙ্গে জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী আরও বলেন, " অনেক আগে যে সব মাচার অনুষ্ঠানের জন্য টাকা নেওয়া আছে, তা তো আমার প্রফেশনাল জায়গা। সেটাকে কেউ এই বিষয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে একেবারেই ভুল করবেন।"
[caption id="attachment_96392" align="aligncenter" width="1024"]
তৃণমূলের ভোট প্রচারে ইন্দ্রাণী [/caption]
অনেকের মতে, রায়গঞ্জের তৃণমূল হয়তো না বুঝেই বাংলাদেশের অভিনেতাকে প্রচারে নামিয়ে দিয়েছিল। এ বার কল্যাণের এই কথা নিয়েও না নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসে! তাহলে বিপাকে পড়তে হতে পারে তৃণমূলকে।
https://www.youtube.com/watch?v=PCm2u237Nsg&feature=youtu.be