দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমানবন্দরে কাস্টমস কাণ্ড নিয়ে যখন বিজেপি-সহ বিরোধীরা তাঁর দিকে আঙুল তুলছেন। টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তা নিয়ে মুখ খুলছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন সেই তিনি, যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-কে হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিলেন, ও সব সিবিআই, ইডি দিয়ে তাঁকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
শনিবার মেদিনীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার সমর্থনে বাখরাবাদে জনসভা করতে গিয়েছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি। সেখানেই বিজেপি-কে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করতে করতে অভিষেক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদেরকে এরা ইডি, সিবিআই লাগিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আরে এ সব খেলনা আমরা ছোটবেলায় খেলেছি। খেলে খেলে বাংলায় বড় হয়েছি। এ সব দেখিও না। যত ইডি, সিবিআই দেখাবে, তত তোমরা গোল্লায় ঢুকবে। যত কুৎসা করবি, তত গোল্লায় ঢুকবি। দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতো ফুলবি।”
দ্বিতীয় দফার তিন কেন্দ্রের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর, বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেছিলেন,’প্রথম দু’দফায় যা ভোট হয়েছে, তাতে বিজেপি ৫-০ তে এগিয়ে রয়েছে।” অর্থাৎ সবকটি আসনে পদ্মফুল ফুটছে। এ দিন তারই পাল্টা অভিষেক বলেন, “প্রথম দু'দফায় তৃণমূল ৫-০ গোল দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাই এখন লক্ষ্য ৪২ এ ৪২ নয়। ৩৭ এ ৩৭।” এরপরই ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ বলেন, “প্রথম দফায় হাত ভেঙেছি। দ্বিতীয় দফায় পা ভেঙেছি। এরপর কোমড়, ঘাড়, মাজা, ব্রেন ভেঙে বলো হরি-হরি বোল বলে বিজেপিকে খাটে তোলা হবে।”
সন্ধ্যা রায়কে সরিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা একদা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মানস ভুঁইয়াকে মেদিনীপুর আসনে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। পাল্টা বিজেপি সেখানে দাঁড় করিয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তিনিও মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা খড়্গপুরের বিধায়ক। ফলে এই কেন্দ্রে লড়াই একেবারে সেয়ানে সেয়ানে। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়। বাগ যুদ্ধেই তার প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন। ষষ্ঠ দফায়, ১২ মে ভোট হবে এই কেন্দ্রে।
অভিষেকের এই বক্তব্য শুনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, “ফুটবল,ক্রিকেট বাদ দিয়ে যদি কেউ ছোটবেলায় ইডি, সিবিআই নিয়ে খেলে, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে বড় হয়ে তিনি কেমন হবেন। কচু কাটতে কাটতেই ডাকাত হয়।”
https://www.youtube.com/watch?v=O2i_ZdznOBs