দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুয়ারে বিধানসভা ভোট। তার আগে ফেব্রুয়ারির ৫, ৬ ও ৮ তারিখ বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করবে বলে ঠিক করেছে রাজ্য সরকার। রীতি হচ্ছে বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করার আগে সংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। সংসদে হলে তা রাষ্ট্রপতির ভাষণ হয়।
তৃণমূল সূত্রের খবর, এবার রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। যা বাংলার বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন। অতীতে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
তৃণমূলের তরফে অন্য যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের শাসকদলের অনেক নেতা বলছেন ১৯৬৩ এবং ২০০৩ সালে সংসদে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ হয়েছিল রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা ছাড়া। কিন্তু রাজ্য আইনসভায় এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি বলে দাবি পরিসংখ্যানবিদদের।
সাধারণত রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে সরকার বক্তৃতা লিখে দেয় আর সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে সংসদে রাষ্ট্রপতি বা বিধানসভায় রাজ্যপাল সেটা পাঠ করেন মাত্র। কিন্তু বাংলার বর্তমান রাজ্যপাল যে সরকারের হ্যাঁ-এ হ্যাঁ মেলাবেন না তা বিলক্ষণ জানে তৃণমূল। গতবার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপাল সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু বক্তৃতা শেষে বলেছিলেন, তিনি যা পাঠ করলেন সবই সরকারের লিখে দেওয়া। সরকারের বক্তব্যই তাঁকে আওড়াতে হয়েছিল। অনেকের মতে, পরোক্ষে রাজ্যপাল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, নবান্নের লিখে দেওয়া যে ভাষণ তিনি পাঠ করেছিলেন সেটা সংবিধানিক প্রধান হিসেবে তাঁর বক্তব্য নয়। সরকারের কথায় তাঁকে পড়তে হয়েছে।
এই রাজ্যপালের জন্য বারবার বিপাকে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে নবান্ন আর রাজভবন। অনেকের মতে, ভোটের আগে সেসব এড়াতেই হয়তো লোকসভার দৃষ্টান্ত শিখন্ডি করে রাজ্যপালকে বাইরে রাখতে চাইছে সরকার।